অর্থ লিপি

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ারবাজার ‘অ্যানালিস্ট’দের পরামর্শে সতর্ক থাকুন

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শেয়ারবাজারসংক্রান্ত তথ্য, বিশ্লেষণ ও পরামর্শ নিয়ে থাকেন। তবে এসব মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও পরামর্শ যাচাই না করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে অনেক ব্যক্তি নিজেদের শেয়ারবাজার বিশ্লেষক, ট্রেডার বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কোর্স, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক সেবা দিচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ও করছেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যিনি অন্যদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও বিশ্লেষণের কৌশল শেখাচ্ছেন, তার নিজের বাস্তব বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা কতটা এবং তিনি নিজে কীভাবে বাজারে বিনিয়োগ করছেন?

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং সেই জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ইতিবাচক বিষয়। তবে কোনো ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণের আগে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, বিনিয়োগের ইতিহাস এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।

প্যানিক’ ও অতিরিক্ত আশাবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু গ্রুপের অ্যাডমিন ও তথাকথিত অ্যানালিস্ট কখনো অতিরিক্ত আতঙ্ক বা ‘প্যানিক’ তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেন, আবার কখনো অতিরিক্ত আশাবাদ তৈরি করে নির্দিষ্ট শেয়ার বা বাজার সম্পর্কে উচ্চ প্রত্যাশা সৃষ্টি করেন।

এ ধরনের আচরণ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো শেয়ার বা বাজারের দামের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য করা হয়, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ বা বাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও কোনো পোস্ট বা ভিডিও দেখে তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত বা অতিরিক্ত আশাবাদী না হয়ে তথ্যের উৎস ও উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি।

প্রাইজ সেনসিটিভ’ তথ্য নিয়েও সতর্কতা জরুরি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা ‘প্রাইজ সেনসিটিভ’ খবর প্রকাশের প্রবণতাও দেখা যায়। কখনো এসব তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়, আবার কখনো তা সঠিক প্রমাণিত হয় না।

এ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যটি কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না।

কোনো ফেসবুক পোস্ট, গ্রুপের বার্তা বা ব্যক্তিগত সূত্রকে অফিসিয়াল তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার কেনাবেচা করলে বিনিয়োগকারী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

জনপ্রিয়তা মানেই দক্ষতা নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি অনুসারী থাকা, নিয়মিত লাইভ করা, চার্ট বিশ্লেষণ করা কিংবা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাজার নিয়ে বক্তব্য দেওয়াকে কোনো ব্যক্তির দক্ষতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কারণ শেয়ারবাজারে প্রতিটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ব্যক্তির একটি মন্তব্য বা পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করলে ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীকেই বহন করতে হয়।

এ কারণে বিনিয়োগকারীদের উচিত কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে সরাসরি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পরিণত না করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, মৌলিক তথ্য, মূল্যায়ন এবং প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা।

পরিচিত ও বিশ্বস্ত পেশাজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য প্রাথমিক ধারণার উৎস হতে পারে। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে নতুন বা কম অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা তাদের পরিচিত ও বিশ্বস্ত সিকিউরিটিজ হাউজের অভিজ্ঞ পেশাজীবী কিংবা অনুমোদিত বিনিয়োগ পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যক্তি, গ্রুপ, পেজ কিংবা অ্যানালিস্টের পরামর্শই বিনিয়োগের নিশ্চয়তা নয়। শেয়ারবাজারে লাভের পাশাপাশি মূলধন হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।

অর্থলিপির নোট

বিভিন্ন বাজারসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু গ্রুপ, পেজ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কখনো অযথা আতঙ্ক, আবার কখনো অতিরিক্ত আশাবাদ তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন মূল্যসংবেদনশীল তথ্য আগাম প্রকাশের দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তার সবগুলো তথ্য সত্য প্রমাণিত হয় না।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গ্রুপকে বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার আগে যথাযথ অনুসন্ধান, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই বিনিয়োগকারীদের প্রতি পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যকে যাচাই ছাড়া সত্য ধরে না নিয়ে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য ও নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

গুজব নয়, যাচাই করা তথ্যই হোক বিনিয়োগের ভিত্তি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত দাবি এবং ব্যক্তিনির্ভর বিনিয়োগ পরামর্শ বিনিয়োগকারীদের ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তাই কারও জনপ্রিয়তা দেখে নয়, তার তথ্যের মান, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা যাচাই করে পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

নিজের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যের কথাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না নিয়ে নিজে তথ্য যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীর পরামর্শ নিন।

গুজব নয়, তথ্যেই হোক বিনিয়োগের শক্তি।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।