অর্থ লিপি

২০ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার ৪ কার্তিক ১৪৩৩

নগদ লভ্যাংশ না পেলে কী করবেন, জেনে নিন বিনিয়োগকারীদের করণীয়

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পুঁজিবাজারে চলছে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম। এ সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী নগদ লভ্যাংশ পান, আবার কারও কারও ব্যাংক হিসাবে নির্ধারিত সময়ে লভ্যাংশের টাকা জমা হয় না। লভ্যাংশের হিসাব, অর্থ বিতরণের নিয়ম এবং টাকা না পেলে কী করতে হবে, এসব বিষয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে নগদ লভ্যাংশের হিসাব থেকে শুরু করে লভ্যাংশের অর্থ না পাওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় তুলে ধরা হলো।

নগদ লভ্যাংশের হিসাব কীভাবে হয়?

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ সাধারণত শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফলে কোনো কোম্পানি ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলে একজন বিনিয়োগকারী প্রতি শেয়ারে পাবেন ১০ টাকা। একইভাবে ২০০ শতাংশ লভ্যাংশে প্রতি শেয়ারে ২০ টাকা এবং ৩০০ শতাংশ লভ্যাংশে ৩০ টাকা পাওয়া যায়।

অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন, লভ্যাংশের হার শেয়ারের বর্তমান বাজারদরের ওপর হিসাব করা হয়। বাস্তবে তা নয়। লভ্যাংশের হার অভিহিত মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়, বাজারদরের ভিত্তিতে নয়।

এর একটি উদাহরণ হতে পারে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) পিএলসি। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হওয়ায় ৩ হাজার ৩৩০ শতাংশ লভ্যাংশের অর্থ দাঁড়ায় প্রতি শেয়ারে ৩৩৩ টাকা।

একবার একজন বিনিয়োগকারী অভিযোগ করেছিলেন, এত বেশি লভ্যাংশ ঘোষণার পরও তিনি প্রতি শেয়ারে মাত্র ৩৩৩ টাকা পেয়েছেন। পরে তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি উপলব্ধি করেন, কোম্পানির ঘোষিত হার অনুযায়ী তিনি তাঁর প্রাপ্য অর্থই পেয়েছেন।

কেন নগদ লভ্যাংশকে গুরুত্ব দেন বিনিয়োগকারীরা?

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁদের কাছে লভ্যাংশ বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত আয় পাওয়ার একটি মাধ্যম। তবে নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া মানেই কোনো কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি সব সময় শক্তিশালী, এমন নয়। কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ, ঋণের পরিমাণ, ব্যবসার ভবিষ্যৎ এবং লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের কেউ কেউ শেয়ার বিক্রি করতে না পারলে লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান। তবে শুধু লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় শেয়ার ধরে রাখার আগে সম্ভাব্য মূল্য পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কখন ও কীভাবে লভ্যাংশের টাকা পাওয়া যায়?

সাধারণত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা অনুযায়ী কোম্পানি লভ্যাংশ বিতরণ করে।

অনেক কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে সংযুক্ত ব্যাংক হিসাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে, যেমন বিইএফটিএন (BEFTN), নগদ লভ্যাংশ পাঠায়। তবে বিতরণের নির্দিষ্ট সময় কোম্পানিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমন্বয় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ জমা ও ঋণ সমন্বয়ের বিবরণ জেনে নেওয়া উচিত।

লভ্যাংশের টাকা না পেলে কী করবেন?

কোনো কোম্পানি লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়ার পরও ব্যাংক হিসাবে টাকা না এলে বিনিয়োগকারীদের কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

১. বিও হিসাবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করুন

আপনার বিও হিসাবে নিবন্ধিত ব্যাংক হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে লভ্যাংশ জমা হতে সমস্যা হতে পারে।

২. ব্যাংক হিসাবের তথ্য হালনাগাদ করুন

ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভুল থাকলে আপনার ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনীয় ব্যাংক-প্রদত্ত নথি বা চেকের কপি জমা দিয়ে বিও হিসাবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নিন। ব্যাংক হিসাবের নম্বরের নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে এক নয়, তাই নিজের ব্যাংকের সঠিক হিসাব নম্বর নিশ্চিত করুন।

৩. কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত ঘোষণা দেখুন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। শুধু লভ্যাংশ অনুমোদনের খবর দেখেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৪. কোম্পানির শেয়ার বিভাগে যোগাযোগ করুন

ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিক থাকার পরও লভ্যাংশের টাকা না পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার বিভাগ বা বিনিয়োগকারী সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে বিও আইডি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট লভ্যাংশের বিবরণ দিয়ে অভিযোগ জানান। অর্থ বিতরণে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা জেনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করুন।

৫. প্রয়োজন হলে ব্রোকারেজ হাউসের সহায়তা নিন

কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমাধান না পেলে নিজের ব্রোকারেজ হাউসের সহায়তা নিন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানান।

লভ্যাংশের হিসাব সংরক্ষণ করুন

বিনিয়োগকারীদের উচিত কোন কোম্পানির কত শেয়ার ছিল, রেকর্ড ডেট কবে, কত শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা হয়েছে, এজিএমের তারিখ এবং অর্থ বিতরণসংক্রান্ত ঘোষণা কবে প্রকাশিত হয়েছে, এসব তথ্য নোটবুক বা ডিজিটাল ফাইলে সংরক্ষণ করা।

এতে লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা এবং নির্ধারিত অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা অনুসরণ করা সহজ হবে।

মনে রাখবেন, লভ্যাংশ ঘোষণা হলেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাতে চলে আসে না। নিজের বিও হিসাবের তথ্য সঠিক রাখা, কোম্পানির ঘোষণা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বিনিয়োগকারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Author

  • মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।