চা-কফিতে চিনি, দই-মিষ্টিতে চিনি, বিস্কুট-কেক-ক্যান্ডি তে চিনি, চকলেট আইসক্রিমে চিনি, পিঠা-পায়েসে চিনি, প্রসেসড ফুডে চিনি – এমনকি রেস্টুরেন্টের ঝাল খাবারেও চিনি। আমেরিকার মানুষ গড়ে দৈনিক প্রায় ৭৭ গ্রাম চিনি খায়। বাংলাদেশেও কম যায় না। ধরি, এক লোক সারাদিনে ১০০ গ্রাম চিনি খাইল। এর বিনিময়ে সে কি পেল?
১০০ গ্রাম চিনিতে ৪০০ ক্যালরি এনার্জি আছে, কিন্তু এক বিন্দু পুষ্টি নাই – পিউর এমটি ক্যালরি। এখন দেখা যাক, এই ক্যালরির পরিণতি কী :
১০০ গ্রাম চিনি বা সুক্রোজ ডাইজেস্ট হয়ে ৫০ গ্রাম গ্লুকোজ এবং ৫০ গ্রাম ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায়। চিনি খাওয়ার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে গ্লুকোজ সরাসরি ব্লাডে চলে গেল এবং ফ্রুক্টোজ লিভারে চলে গেল।

গ্লুকোজের পরিণতি : একসাথে অনেক গ্লুকোজ ব্লাডে গেলে গ্লুকোজ লেভেল পিক হয় এবং ইনসুলিন সিক্রেশন হয়। ইনসুলিন এর কাজ হল – গ্লুকোজকে শক্তি উৎপাদনের জন্য কোষে প্রবেশ করানো এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন ও ফ্যাট হিসেবে জমা করা।
ফ্রুক্টোজের পরিণতি : ফ্রুক্টোজ সরাসরি শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হতে পারে না। লিভার ফ্রুক্টোজকে গ্লিসারল ও ফ্যাট বা চর্বি হিসেবে জমা করে।
অর্থাৎ আপনি যে চিনি খাচ্ছেন, তা বডি বার্ন না করতে পারলে প্রায় পুরোটাই চর্বি বা মেদ হিসেবে দেহে জমা হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায়, মেটাবলিক সিন্ড্রোম ও ক্রনিক ডিজিজ।
ভয়ানক খাদ্য চিনি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য আমাদের শারীরিক অসুস্থতার জন্যে চিনি বহুলাংশে দায়ী ।