ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিইএলসির ( ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (DSE TREC -134 , DP Reg. No.-CDBL-DP-32) হাউসে রক্ষিত বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত অর্থের ব্যাংক হিসাবে ঘাটতির কারণে মশিউর সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, ও প্রধান নির্বাহীর ব্যাংক ও বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থ ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার(২৯ আগস্ট) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, সহকারী পরিচালক মারুফ হাসান ও অমিত কুমার সাহা; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন এবং সিডিবিএলের উপব্যবস্থাপক শরীফ আলী ইরতেজা।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, মশিউর সিকিউরিটিজের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৬৯ কোটি টাকা ঘাটতি পাওয়া গেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রোকারেজ হাউসটির ওপর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার আগেই ব্রোকারেজ হাউসটির পক্ষ থেকে গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ব্রোকারেজ হাউসটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের বিশেষ শাখা বা এসবিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউসটির যে তিন কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, তাঁর ছেলে শেখ মোগল জান রহমান ও জিয়াউল হাসান চিশতী। তাঁদের সবারই ঠিকানা রাজধানীর গুলশান-১–এর ৩৩ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাড়ি। গত রাতেই বিএসইসির পক্ষ থেকে এসব ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এসবিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার ডিএসইর পক্ষ থেকে মশিউর সিকিউরিটিজের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতির বিষয়টি বিএসইসিকে জানানো হয়। ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে ২০২৩ সালেও তদন্তে ব্রোকারেজ হাউসটির গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে ঘাটতি পাওয়া যায়। পরে এ বিষয়ে বিএসইসিকে জানানো হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে আবারও ব্রোকারেজ হাউসটিতে গ্রাহকের অর্থের বড় অঙ্কের ঘাটতি পাওয়া যাওয়ায় পুনর্গঠিত বিএসইসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর ব্যাংক ও বিও হিসাব জব্দ এবং তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা টার্মস অব রেফারেন্স অনুসারে, আলোচিত কমিটি বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখবে। এর মধ্যে আছে-সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের অবস্থা, গ্রাহকদের রক্ষিত শেয়ার, সব ওয়ার্ক স্টেশন অনুমোদিত কিনা, ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের ব্যবহার, কোনো নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে কিনা, মার্জিন বিধিমালা সঠিকভাবে পরিপালিত হচ্ছে কি না ইত্যাদি।
তদন্ত কমিটির কর্মপরিধির মধ্যে আরও রয়েছে-প্রতিষ্ঠানটিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রুলস, ২০২০ সঠিকভাবে পরিপালিত হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা, ব্রোকার হাউজটিতে একই মোবাইল নাম্বারের বিপরীতে দুয়ের অধিক বিও হিসাব আছে কিনা, প্রতিষ্ঠানটিতে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অনুমোদিত প্রতিনিধিসহ চাকরিরতদের কোনো বিও হিসাব আছে কি না, গ্রাহককে দেওয়া চেক তহবিলের অভাবে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কি না, সক্রিয় বিও হিসাবে সংখ্যা, প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকার মতো সক্ষমতা আছে কি না।
জানা গেছে গত ১ বছর যাবত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির টাকা উত্তোলনের জন্যে রিকিউজিশন দিলে ১/২ মাস ঘুরিয়ে টাকা দিত, রিকিউজিশন দিলে টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে বিনিয়োগকারীরা পোস্ট করে জানাত, ঢাকা শেয়ার ডট কমকে গত মাসে এক বিনিয়োগকারী ফোন করে জানান তাঁর একটি বিও একাউন্ট এর টাকা উত্তোলন করতে রিকিউজিশন দেয়ার পরে ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে ও টাকা পাচ্ছিলেন না তারপর ডিএসইতে এবং বিএসইসিতে মেইল করার পরে টাকা পেয়েছিলেন। এমন ঘটনা অনেক আছে।
ইতিমধ্যেই অনেক বিনিয়োগকারী মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেড থেকে লিংক একাউন্ট করে হাউজ পরিবর্তন করে নিয়েছে। তাদের অবস্থা এমন যারা টাকা তুলতে এসে টাকা পাচ্ছেন না তারাই লিংক একাউন্ট করে হাউজ পরিবর্তন করছেন।
বিও একাউন্ট অন্য হাউজে লিংক একাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করার নিয়ম ও খরচ
ফেসবুকে মশিউর সিকিউরিটিজ নিয়ে প্রায়ই পোস্ট করে বিভিন্ন লোকজন সেই সব পোস্টের কমেন্টে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর গতদিনের কিছু মতামত তুলে ধরা হলো।

মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেডর এই বিষয় টি নিয়ে একজন বাজার বিশ্লেষকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান কঠোর ভাবে এই বিষয়টি অনুসন্ধান করতে হবে কেননা ১/২ টি কোম্পানির জন্যে অনেকের বদনাম হয়ে যায়। তাদের যদি অনিয়ম প্রমানিত হয় তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো কোম্পানি দুর্নীতি করতে ভয় পায়।