বহুদিন পরে গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন দুটোই উর্ধ্বমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১.৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১১.৪৩ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সার্বিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৭৫৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৭৮২ পয়েন্ট। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৩৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৮টির, কমেছে ৮৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির শেয়ারদর। আর লেনদেন হয়নি ২০টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৩৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যেখানে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩২৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের আধিপত্য ছিল।
লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে তিনটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া সিমেন্ট খাতে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতে ৪ দশমিক শূন্য ৮, সিরামিক খাতে ২ দশমিক ৬৫ এবং পাট খাতে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে করপোরেট বন্ড খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন ছিল বহুজাতিক কোম্পানি খাতে দশমিক ৫২ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৪০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ২৭১ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ১১১ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ১৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যেখানে মোট লেনদেন ছিল ৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ১৩২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির বাজারদর।
গত সপ্তাহের শেয়ারবাজারের ইতিবাচকতা থাকবে কি এই সপ্তাহে? এমন প্রশ্ন অনেক বিনিয়োগকারীর, গত সপ্তাহে সূচক বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আশান্বিত হতে দেখা গেল। দেখা যাক নতুন সপ্তাহে বাজার কেমন আচরণ করে।
বাজারের সার্বিকদিক নিয়ে অভিজ্ঞ একজন বাজার বিশ্লেষকের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি জানান এই সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সূচক কম হলেও যেন ইতিবাচক অবস্থায় থাকে। তিনি বলেন মানুষ এখন ভয়ে আছেন, মানুষের মনের ভয় কাটার জন্যে বাজার ইতিবাচক থাকা খুব জরুরী।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।