প্রচলিত আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। মূল বিষয়টা হল সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের দেহের ভেতরে থাকা অর্গান গুলো ভালো রাখা জরুরী।
দেহের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় অর্গান হচ্ছে লিভার, যাকে আমরা বলি কলিজা। দেহের সবচেয়ে বেশি কাজও এই লিভারকেই করতে হয়। লিভারকে প্রায় ৫০০ জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ সংঘটিত হয় – এজন্য লিভারকে মানবদেহের ল্যাবরেটরি বলে।
লিভার নিজেকে উজার করে দিয়ে দেহকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করে। যতক্ষণ লিভার ভাল থাকে ততক্ষণ অন্যান্য অঙ্গ অনেকটা নিরাপদেই থাকে। এত অত্যাচার আর কোন অঙ্গকে সহ্য করতে হয় না। যখন লিভার আর অত্যাচার সহ্য করতে পারে না ও নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তখন থেকেই দেহে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয় এবং অন্যান্য অঙ্গ নষ্ট হতে থাকে। কিন্তু আশার কথা হল, কোন কারণে লিভারের দুই-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেলেও তা রিজেনারেট করতে পারে, যা অন্য কোন অঙ্গ করতে পারে না।
আমাদের পরিপাকতন্ত্রে সকল খাদ্য হজম ও শোষণ হবার পর তা প্রথমে লিভারে আসে। এখানে তা প্রসেস হয়ে প্রয়োজন মাফিক দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, টিস্যু ও কোষে পৌঁছায়। আর যে পুষ্টি উপাদান আপাতত কাজে লাগে না তা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য লিভার তা রূপান্তরিত করে এবং সঞ্চিত করে। নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন উল্লেখ করা হল :
১। ফ্যাট পরিপাকের জন্য পিত্তরস (bile) তৈরি করা ও তা পিত্তথলিতে (gall bladder) জমা করা।
২। দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ গ্লাইকোজেন ও ফ্যাট বা চর্বিতে রূপান্তর করে জমা করা।
৩। রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
৪। দেহে গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনের ঘাটতি হলে প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে গ্লুকোজ তৈরি করা।
৫। পুরাতন লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে হিমোগ্লোবিনের আয়রন সঞ্চয় করা এবং বিলিরুবিন নিষ্কাশন করা।
৬। প্রায় ১.৫ লিটার পর্যন্ত রক্ত সঞ্চয় করা।
৭। অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় হরমোন ধ্বংস করা।
৮। ভিটামিন A, D, E, K, B12, ফলিক এসিড, আয়রন, পটাসিয়াম, কপার, জিঙ্ক সঞ্চয় করা।
৯। রক্ত হতে টক্সিন (বিপাকীয় বর্জ্য, পেস্টিসাইড, এলকোহল, কেমিক্যাল ঔষধ ইত্যাদি) প্রশমিত করে রক্ত বিশুদ্ধ করা (Detoxification)।
১০। কোলেস্টেরল তৈরি করা এবং তা পরিবহনের জন্য বিশেষ প্রোটিন তৈরি করা।
১১। রক্তের প্লাজমার জন্য বিশেষ প্রোটিন Albumin তৈরি করে যা ফ্যাটি এসিড পরিবহনে কাজ করে।
চলবে….