দেশের বেসরকারি খাতের অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন আটকে গেছে। ফলে এসব ব্যাংক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারছে না, আবার লভ্যাংশও ঘোষণা করতে পারছে না। আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতি পরিপালন করতে গিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২১টি কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে সভা ডেকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ফলে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ছাড়া কিছু ব্যাংকের সভা শেষ হয়েছে। আর কিছু ব্যাংক পর্ষদ সভা বাতিল করেছে।
নিয়মনীতির কারণে পর্ষদ সভার ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে আসতে হয়েছে অনেক ব্যাংককে। কোনো কোনো ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে সর্বশেষ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। কিছু ব্যাংক আবার পর্ষদ সভা স্থগিত করেছে। ঘোষিত পর্ষদ সভায় সর্বশেষ বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।
দেশের ব্যাংকগুলোকে হিসাব বছর হিসেবে ক্যালেন্ডার বছরকে অনুসরণ করে থাকে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এদের হিসাব বছর শেষ হয়েছে। বিধি অনুসারে, হিসাব বছর শেষ হওয়ার চার মাসের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত ও প্রকাশ করতে হয়, গত ৩০ এপ্রিল এ সময় শেষ হয়েছে। শেষ দিন প্রায় দুই ডজন ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু সৃষ্ট জটিলতার কারণে ১৭টি ব্যাংক তাদের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারেনি। এদের কয়েকটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হলেও ওই সভার আলোচ্যসূচি থেকে আর্থিক প্রতিবেদনকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যগুলো ওই পথে না গিয়ে সরাসরি সভাই স্থগিত করেন। আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত না হওয়ায় লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।