দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর দেশের শেয়ারবাজার সম্পূর্ণরূপে ফ্লোর প্রাইসের বাইরে চলে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার(৯ জুন) থেকে বাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ার স্বাভাবিক চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে লেনদেন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা চালু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে বেশ কিছু কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলেও কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল। সর্বশেষ অবশিষ্ট কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও এ সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ায় শেয়ারবাজার এখন সম্পূর্ণ ফ্লোরমুক্ত।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার ফলে বাজারে প্রকৃত মূল্য আবিষ্কারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক গতি ও তারল্য ফিরে আসতে পারে।
অনেক বিনিয়োগকারীর মতে, ফ্লোর প্রাইস ছিল একটি সাময়িক ব্যবস্থা, যা দীর্ঘ সময় ধরে বহাল থাকায় বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কোনো পরিস্থিতিতেই বাজারকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ বা আটকে রাখার পথে হাঁটা হবে না।
একজন বিনিয়োগকারী বলেন, “শেয়ারবাজারের নিজস্ব একটি গতিশীলতা রয়েছে। বাজারকে বাজারের নিয়মেই চলতে দেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন পর সম্পূর্ণ ফ্লোরমুক্ত বাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতা, সুশাসন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বাজারভিত্তিক নীতি অনুসরণ করা হলে দেশীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশের পুঁজিবাজার নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করল। এখন বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বাজারের স্বাভাবিক বিকাশ ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না।