শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্স্যুরেন্স খাতের সাতটি কোম্পানি চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
কোম্পানিগুলো হলো নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, সিকদার ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। অন্যদিকে দুটি কোম্পানির ইপিএস কমেছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৪ টাকা ২২ পয়সা ইপিএস নিয়ে এগিয়ে রয়েছে পিপলস ইন্স্যুরেন্স। নিচে কোম্পানিগুলোর পৃথক আর্থিক চিত্র তুলে ধরা হলো।
১. নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৭ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস ৪ পয়সা বেড়েছে।
তবে প্রথম ৯ মাসের হিসাবে কোম্পানিটির আয় কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩২ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ, ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস ৪ পয়সা কমেছে।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৫ টাকা ১২ পয়সা।
২. ঢাকা ইন্স্যুরেন্স
ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৪৯ পয়সা। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ পয়সা বেড়েছে।
অন্যদিকে প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ৬৮ পয়সা। অর্থাৎ, ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস ২ পয়সা বেড়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৩৭ টাকা ৪৯ পয়সা।
৩. মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স
মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১১ পয়সা। সে হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস ৯ পয়সা বেড়েছে।
তবে প্রথম ৯ মাসের আর্থিক চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৪ পয়সা। ফলে ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস ১০ পয়সা কমেছে।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২১ টাকা ১১ পয়সা।
৪. পিপলস ইন্স্যুরেন্স
পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৮১ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের ইপিএস বেড়েছে ৪৮ পয়সা।
প্রথম ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ২২ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ, ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৯২ পয়সা।
শুধু ইপিএস নয়, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহেও (এনওসিএফপিএস) উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৯৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৪৫ পয়সা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৪১ টাকা ১২ পয়সা।
৫. কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স
কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৬১ পয়সা। অর্থাৎ, তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১৫ পয়সা বেড়েছে।
প্রথম ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা। ফলে ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৪৮ পয়সা।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৫ টাকা ২২ পয়সা।
৬. সিকদার ইন্স্যুরেন্স
সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ, তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ পয়সা বেড়েছে।
অন্যদিকে প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৩ পয়সা। ফলে ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৭১ পয়সা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১০ টাকা ১২ পয়সা।
৭. প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স
প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৯৩ পয়সা (রিস্টেটেড)। সে হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১৯ পয়সা কমেছে।
তবে প্রথম ৯ মাসের হিসাবে কোম্পানিটির আয় সামান্য বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা (রিস্টেটেড)। অর্থাৎ, ৯ মাসের হিসাবে ইপিএস ৩ পয়সা বেড়েছে।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২১ টাকা ৬১ পয়সা।
সার্বিক পর্যালোচনা
সাতটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে পিপলস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় সর্বোচ্চ ৪ টাকা ২২ পয়সা। এরপর রয়েছে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স ২ টাকা ২০ পয়সা এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ২ টাকা ৩ পয়সা।
অন্যদিকে ৯ মাসের ইপিএস বৃদ্ধির দিক থেকে পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্সের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। বিপরীতে নর্দার্ন ইসলামী ও মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে সাতটি কোম্পানির মধ্যে ছয়টির ইপিএস বেড়েছে। তবে প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস কমেছে।
উল্লেখ্য, শুধু ইপিএস কিংবা এনএভিপিএস বিবেচনা করে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, নগদ অর্থপ্রবাহ, লভ্যাংশের ইতিহাস, শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য, মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।