ঢাকার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন পাঁচ তারকা হোটেল লে মেরিডিয়ানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টহোল্ডিংস’কে পুঁজিবাজারে আনতে এবার আইনি ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজঅ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রভাবশালী একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে লে-মেরিডিয়ান হোটেল কে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন সেই প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
জানা যায় বেস্ট হোল্ডিংস ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আগে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। ব্যাংকগুলো প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ৬৫ টাকায় ক্রয় করে।রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের ‘মালিকানার’ অংশের কারণেই কোম্পানিটিকে সরকারি কোম্পানির নাম দিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সে সময়। তখন কাজটি করা হয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ডএক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো অনুমোদন ছাড়া। তবে এইবার ২০২৩ সালেনিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনি ছাড় দিয়ে কোম্পানিটির মূল প্রতিষ্ঠান ‘বেস্ট হোল্ডিংস’কে শেয়ার বাজারে আসার পথ সহজ করে দিয়েছে।
বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড কোম্পানিটিকে সাধারণ মানুষ সেভাবে চিনেন না, তবে রাজধানীর খিলখেত নিকুঞ্জ ২ এলাকার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ‘লে মেরিডিয়ান’ হোটেলটি সবাই চিনেন। লে মেরিডিয়ান হোটেল ছাড়াও বেস্ট হোল্ডিংসের আওতায় ম্যারিয়টসহ আরও কয়েকটি হোটেল এবং বিলাসবহুল ভিলা ও রিসোর্ট উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। যা শীগ্রই চালু হবে বলে জানা গিয়েছে।
গতবছর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে আসার জন্য বিএসইসিতে আবেদন জমা দেয়। এই লক্ষে তারা ২০২২ সালের ২০ শে অক্টোবর তারিখে লে মেরিডিয়ান হোটেলে রোডশো করে কোম্পানিটি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেছিল।
রোডশোতে কোম্পানিটি জানায় বেস্ট হোল্ডিংস বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্পানির পরিচিতি, বিগত কয়েক বছরেরআর্থিক তথ্য, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদির বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে লে-মেরিডিয়ান ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রকল্পে বিনিয়োগ রয়েছে বেস্ট হোল্ডিংসের। এর মধ্যে ভালুকা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালদ্বারা ভালুকা রিসোর্ট। বেস্ট হোল্ডিং নোয়াখালি প্রকল্পের পরিচালিত হচ্ছে বড় আকারের পোল্ট্রি খামার।
আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চ–সুদের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করবে কোম্পানিটি। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ অর্থ ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা পরিচালিত ভালুকা রিসোর্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় করা হবে।
প্রসপেক্টাসের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ অর্থবছরে বেস্ট হোল্ডিংস–এর আয় ছিল প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। এই আয়ের ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছে পাঁচ তারকা হোটেল লে-মেরিডিয়ান থেকে, বেস্ট হোল্ডিংসের নোয়াখালী প্রকল্প থেকে এসেছে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশআয়, ভালুকা প্রকল্প থেকে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ১০ শতাংশ এল এম কমার্শিয়াল এবংঅবশিষ্ট ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ আয়ের যোগান দিয়েছে অবকাঠামো নির্মাণ সামগ্রী এবং অন্যান্য।
একই বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল প্রায় ১০১ কোটি টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ০৯ পয়সা। এর আগের বছর নিট মুনাফা হয়েছিলো ৩৯ কোটি টাকাএবং ইপিএস ৪২ পয়সা।
গত ৩০ জুন ২০২২, কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৫৭.২২টাকা। আগের বছরের ৩০ জুন তারিখে তা ৫৪.৩৮ টাকা।
বেস্ট হোল্ডিংস” কে পুঁজিবাজারে আনতে ৩ টি শর্তে আইনি ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)
প্রথম শর্ত হল কোম্পানির আইপিওর আগে ইস্যু করা বেস্ট হোল্ডিংসের সমস্ত শেয়ার স্টকএক্সচেঞ্জে প্রথম লেনদেনের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য লক ইন থাকবে।
দ্বিতীয় শর্ত হল কোম্পানিকে আবেদনের তারিখ থেকে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর (IPO) এর অধীনে শেয়ার ইস্যু করা পর্যন্ত আর শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
তৃতীয় শর্ত হল (IPO) এর জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে কোম্পানিকে সিকিউরিটিজ আইন সহ অন্যান্য সমস্ত প্রাসঙ্গিক আইনের বিধান যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে।