অর্থ লিপি

১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

সংকটের থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

সংকটের থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আলী খান আরও জানান, তিন মাস মেয়াদি এই ধার বা ঋণের বিপরীতে শতভাগ নিশ্চয়তা (গ্যারান্টি) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, ১০ শতাংশ সুদে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং এরইমধ্যে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু গ্যারান্টি দিচ্ছে, তাই আমাদের কোনো ঝুঁকি নেই। যদি ন্যাশনাল ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকই আমাদের টাকা ফেরত দেবে।’

শওকত আলী আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল ব্যাংককে এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি যেন সঠিক কাজেই ব্যয় হয়, তা জরুরি।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানিয়েছেন, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের আমানত তুলতে পারবেন। গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যাংকটি এরই মধ্যে আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে।

তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে আগামীকালের মধ্যেই সব শাখায় পর্যাপ্ত অর্থ পৌঁছে যায়। আশা করছি, পরশু থেকে আমরা সব গ্রাহককে সেবা দিতে পারব।’

গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহায়তা চেয়েছিলেন। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল।

বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়াই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল অগ্রাধিকার।

তিনি ন্যাশনাল ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন, যেন গ্রাহকরা সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ‘কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। ১৫ অক্টোবর থেকে তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। এ বিষয়ে ব্যাংকটিকে প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।’

২০২২ সাল থেকে চার বছরে ন্যাশনাল ব্যাংক প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তাদের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকার তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই ছিল খেলাপি।

গত মাসে চারজন আমানতকারী তাদের জমানো টাকা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে, সর্বশেষ এই তারল্য সহায়তার বিষয়টি সামনে আসে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।