দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থান এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচকসহ তিনটি সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি দর বেড়েছে ২৪০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের। তবে বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে পরবর্তী কার্যদিবসের দিকে।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ দশমিক ০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৪৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন মোট ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৪৯টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭ বার।
লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি থাকলেও বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বুঝতে শুধু সূচক বা লেনদেনের পরিমাণের দিকে তাকালেই হবে না। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, কোম্পানির মৌলভিত্তি এবং বাজারে ক্রয়চাপের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
দর বেড়েছে ২৪০ কোম্পানির, কমেছে ৯০টির
বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ২৪০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল অন্য কোম্পানিগুলোর দর।
দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা দরপতনের তালিকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে দিনের লেনদেনে বাজারের বিস্তৃত অংশে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সব কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি কিংবা সূচকের উত্থানই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দেয় না।
উত্থান কতটা স্থায়ী হবে?
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা শুধু এক বা দুই দিনের সূচক বৃদ্ধি নয়, বরং একটি ধারাবাহিক ও টেকসই ইতিবাচক বাজার পরিস্থিতি। সে কারণে বৃহস্পতিবারের উত্থান পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।
বাজারের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স, নিয়মিত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, সুশাসন এবং অনিয়ম প্রতিরোধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও গুজব বা সাময়িক দরবৃদ্ধির পরিবর্তে কোম্পানির আয়, লভ্যাংশ, আর্থিক অবস্থা ও মূল্যায়ন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, সূচকের উত্থান এবং ২৪০টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে ডিএসই। এখন দেখার বিষয়, এই ইতিবাচক প্রবণতা নতুন সপ্তাহে কতটা ধরে রাখা যায় এবং তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে কতটা ভূমিকা রাখে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।