শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ পাচ্ছেন? তাহলে কাটা ট্যাক্সের হিসাবও রাখুন।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা প্রতিবছর বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে নগদ লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। তবে লভ্যাংশের অর্থ ব্যাংক বা বিনিয়োগকারীর হিসাবে জমা হওয়ার আগে নির্ধারিত হারে উৎসে কর বা ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। অনেক বিনিয়োগকারী এই কাটা ট্যাক্সের বিষয়টি জানলেও, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এর সঠিক সমন্বয় করেন না।
ফলে নিজের প্রাপ্য করের হিসাব সঠিকভাবে উপস্থাপনের একটি সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
লভ্যাংশের ওপর কাটা ট্যাক্সের প্রমাণ রাখুন
আপনি যদি নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ পান, তাহলে প্রতিটি কোম্পানি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের তথ্য এবং কেটে রাখা উৎসে করের হিসাব সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
লভ্যাংশ দেওয়ার সময় কোম্পানি যে উৎসে কর কেটে রাখে, তার বিপরীতে Tax Deduction Certificate বা Tax Certificate সংগ্রহ করা যেতে পারে। রিটার্ন দাখিলের সময় প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে উৎসে কর্তিত করের তথ্য দেখানো যায়।
কী করবেন বিনিয়োগকারীরা?
প্রথমে বছরে কোন কোন কোম্পানি থেকে কত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টের কাছ থেকে Tax Certificate সংগ্রহ করুন।
রিটার্ন দাখিলের সময় ওই সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকা লভ্যাংশ এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন। এতে আপনার রিটার্নে উৎসে কর্তিত করের সমন্বয় বা ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা আপনার সামগ্রিক কর হিসাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ছোট অঙ্ক হলেও অবহেলা নয়
একটি কোম্পানি থেকে হয়তো কয়েক হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন এবং সেখান থেকে কিছু ট্যাক্স কেটে রাখা হয়েছে। অঙ্কটি ছোট মনে হলেও বছরে একাধিক কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ পেলে মোট কর্তিত করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত, লভ্যাংশের টাকা নেওয়ার পাশাপাশি কেটে রাখা ট্যাক্সের হিসাব ও সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করা।
বিনিয়োগ মানেই শুধু লাভ-লোকসানের হিসাব নয়
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত শেয়ারের দাম বাড়ল কি না, কত লাভ হলো কিংবা কত লভ্যাংশ পেলেন, এসবের দিকেই বেশি নজর দেন। কিন্তু বিনিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং আয়কর রিটার্নে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করলে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের আর্থিক হিসাব আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
তাই লভ্যাংশ পেলেই শুধু হিসাব করবেন না, কত টাকা ট্যাক্স কাটা হলো সেটিও হিসাব করুন। Tax Certificate সংগ্রহ করুন এবং রিটার্ন দাখিলের সময় তা যথাযথভাবে ব্যবহার করুন।
নোট: উৎসে কর্তিত কর সমন্বয়, রিফান্ড বা কর-ক্রেডিট পাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তির আয়, করযোগ্যতা ও প্রযোজ্য আয়কর আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই রিটার্ন দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট কর আইন ও একজন যোগ্য কর পেশাজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী তথ্য উপস্থাপন করা নিরাপদ।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।