গত দিনের সংশোধন ও বিক্রয়চাপ কাটিয়ে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে।
দিনের লেনদেনের শেষ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সূচকসহ শরিয়াহ ও বাছাই করা কোম্পানির সূচকও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারের এ প্রবণতায় তুলনামূলকভাবে শক্ত মৌলভিত্তির এবং বড় মূলধনী কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এক দিনের বাজারচিত্রের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান
বুধবার দুপুর ২টা ১২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ১১ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬ দশমিক ০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ৩০টি বড় কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে।
লেনদেন বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি
দিনের এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৬০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
এ সময়ে মোট ১৯ কোটি ৪১ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭২টি।
বেশির ভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে
বাজারের লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯১টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৩৪টি কোম্পানির এবং ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থাৎ দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা পতনশীল কোম্পানির তুলনায় বেশি ছিল। এতে দিনের লেনদেনে সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা শক্তিশালী ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।
মৌলভিত্তিক শেয়ারে লেনদেনের উপস্থিতি
দিনের লেনদেনে ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল, বিএসআরএম লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, সোনালী আঁশ এবং এপেক্স ফুডসের মতো কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে দর বৃদ্ধি ও উল্লেখযোগ্য লেনদেন দেখা গেছে।
বিশেষ করে বড় মূলধনী ও তুলনামূলকভাবে শক্ত মৌলভিত্তির কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এসব শেয়ারে লেনদেন বৃদ্ধিকে পুরো বাজারের মৌলভিত্তিক শেয়ারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখার আগে পরবর্তী কয়েকটি কার্যদিবসের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে যারা
দর বৃদ্ধির দিক থেকে দিনের শীর্ষে রয়েছে ইভেন্স টেক্সটাইল । কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এ ছাড়া বিএসআরএম স্টিলের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, বিএসআরএম লিমিটেড ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সাইহাম টেক্সটাইল ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
লেনদেনে এগিয়ে যেসব শেয়ার
লেনদেনের আর্থিক মূল্যের দিক থেকে শীর্ষে ছিল ইভেন্স টেক্সটাইল । কোম্পানিটির শেয়ারে প্রায় ৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস, প্রায় ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা; ব্র্যাক ব্যাংক, প্রায় ২০ কোটি ৬ লাখ টাকা; সাইহাম টেক্সটাইল, প্রায় ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং ওরিয়ন ইনফিউশন, প্রায় ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
বাজারে ইতিবাচক গতি ফিরলেও প্রয়োজন ধারাবাহিকতা
দিনের শুরুতে কিছুটা দোলাচল ও সাময়িক সংশোধন থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান সূচকের পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ও বড় মূলধনী কোম্পানির সূচকের উত্থানও বাজারে কিছুটা ইতিবাচক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট থাকায় এক দিনের সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধিকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা না করে কয়েকটি কার্যদিবসের ধারাবাহিকতা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লেনদেনের গতি, মৌলভিত্তিক শেয়ারে অংশগ্রহণ এবং বাজারের সামগ্রিক ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে কি না, সেটিই আগামী দিনের বাজারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থলিপির পর্যবেক্ষণ
বাজারে ইতিবাচক গতি ফিরলে সেটি টেকসই করতে প্রয়োজন স্বাভাবিক চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ, নির্ভরযোগ্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা। তাই সূচকের এক দিনের উত্থানের পাশাপাশি বাজারের গুণগত পরিবর্তন ও লেনদেনের ধারাবাহিকতাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা জরুরি।