ডিজিটাল লেনদেনকে আরও দ্রুত, সহজ ও জনপ্রিয় করতে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) ভিত্তিক লেনদেনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় বাংলা কিউআর লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের হিসাবে জমা, মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআর আইকনের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে পেমেন্টের সুবিধা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) জন্য প্রযোজ্য।
১ অক্টোবর থেকে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে সম্পন্ন লেনদেনে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের হিসাবে জমা করতে হবে।
অর্থাৎ, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কোনো পেমেন্ট সম্পন্ন হলে মার্চেন্টকে অর্থ জমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
অ্যাপের হোম পেজে থাকবে বাংলা কিউআর
ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অ্যাপের হোম পেজের নিচের অংশে বা ‘বটম-সেন্টার পজিশন/থাম্ব জোনে’ বাংলা কিউআর-এর আইকন রাখতে হবে।
এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টের সুবিধায় প্রবেশ করতে পারবেন।
কিউআর কোডের ছবি আপলোড করেও পেমেন্ট
শুধু সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্যালারি থেকে বাংলা কিউআর-এর ছবি বা ইমেজ আপলোড করেও পেমেন্টের সুবিধা চালু করতে হবে।
আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ সুবিধা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব থেকেও বাংলা কিউআর পেমেন্ট
কার্ডধারী গ্রাহকদের পাশাপাশি সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীরাও যাতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এ সুবিধাও আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চালু করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক আ.ন.ম. মঈনুল কবীর স্বাক্ষরিত সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’-এর ১৮(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।