দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ও দিনের সমাপনী সূচক একই হওয়ায় সূচক গণনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দিনের সর্বনিম্ন সূচক কীভাবে দিনের ক্লোজিং সূচক হতে পারে এবং লেনদেনের শেষ পর্যায়ে সূচকের ওঠা নামার পর চূড়ান্ত সূচক নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কী?
বিনিয়োগকারীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজকের লেনদেনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫৩২.৭৫ পয়েন্ট, যা দিনের সমাপনী সূচক হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় সূচক গণনার পদ্ধতি ও প্রদর্শিত তথ্যের যথার্থতা নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করছেন তাঁরা।
লেনদেনের শেষ কয়েক মিনিটের সূচক নিয়ে প্রশ্ন
বিনিয়োগকারীদের একাংশের দাবি, এর আগেও বহুবার দেখা গেছে, লেনদেন শেষ হওয়ার তিন থেকে চার মিনিট আগে সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে কিংবা কমেছে। কিন্তু চূড়ান্ত ক্লোজিং সূচক প্রকাশের পর দেখা গেছে, শেষ কয়েক মিনিট আগে প্রদর্শিত সূচকের তুলনায় সমাপনী সূচকে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সূচক অনেকটা কমে বা বেড়ে সমন্বিত হয়েছে বলে তাঁদের পর্যবেক্ষণ। এ কারণে তাঁদের প্রশ্ন, লেনদেন চলাকালে স্ক্রিনে প্রদর্শিত সূচক এবং দিনের চূড়ান্ত ক্লোজিং সূচকের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয় কেন? এটি কি সূচক গণনার নির্দিষ্ট পদ্ধতির কারণে, নাকি লেনদেনের শেষ পর্যায়ে তথ্য হালনাগাদ বা সমন্বয়ের কোনো প্রক্রিয়া রয়েছে?
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিনিয়োগকারীরা লেনদেন চলাকালে প্রদর্শিত সূচক দেখে বাজারের গতিপ্রকৃতি ও সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেন। শেষ মুহূর্তের সূচক এবং চূড়ান্ত সূচকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেলে তার কারণ জানা বিনিয়োগকারীদের জন্য জরুরি।
সর্বনিম্ন সূচকই কি ক্লোজিং হতে পারে?
প্রযুক্তিগতভাবে দিনের সর্বনিম্ন সূচক এবং ক্লোজিং সূচক একই হওয়া সম্ভব। লেনদেনের শেষ পর্যায়ে সূচক দিনের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এলে এবং সেখান থেকেই লেনদেন শেষ হলে এমনটি ঘটতে পারে। তাই শুধু সর্বনিম্ন ও ক্লোজিং সূচক একই হওয়ার কারণে সূচক গণনায় ভুল হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে আলোচ্য ক্ষেত্রে সূচকের তথ্য কীভাবে গণনা ও হালনাগাদ করা হয়েছে, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দিনের সর্বনিম্ন সূচক, লেনদেনের শেষ কয়েক মিনিটে প্রদর্শিত সূচক এবং চূড়ান্ত ক্লোজিং সূচকের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
ডিএসইর কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির অন্যতম শর্ত। সূচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারসূচক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
এ ক্ষেত্রে ডিএসইর কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা
সূচক গণনার পদ্ধতি এবং ক্লোজিং সূচক নির্ধারণের প্রক্রিয়া পরিষ্কার করা।লেনদেনের শেষ কয়েক মিনিটে প্রদর্শিত সূচক ও চূড়ান্ত ক্লোজিং সূচকের মধ্যে পার্থক্য কেন হয়, তা ব্যাখ্যা করা। দিনের সর্বনিম্ন সূচক ও ক্লোজিং সূচক একই হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া।
তথ্য হালনাগাদে বিলম্ব বা কোনো কারিগরি অসংগতি থাকলে তা স্পষ্ট করে জানানো।
আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজন স্বচ্ছতা
বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের জবাব অনুমান দিয়ে নয়, তথ্য ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেওয়া প্রয়োজন। সূচকের ওঠানামা শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে সূচক কীভাবে গণনা করা হচ্ছে এবং লেনদেন শেষে চূড়ান্ত মান কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
ডিএসইর কাছে তাই বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, সূচক গণনা ও ক্লোজিং সূচক নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হোক। এতে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি বাজারের তথ্যের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
অর্থলিপির পর্যবেক্ষণ: বিনিয়োগকারীদের উত্থাপিত প্রশ্নের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দিনের সূচকের সময়ভিত্তিক তথ্য এবং ডিএসইর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।