অর্থ লিপি

৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিএসইর সূচক গণনায় কি বদলেছে কিছু? প্রশ্ন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৪ অক্টোবর ২০২৬ লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের (DSEX) সর্বনিম্ন অবস্থান ও দিনের ক্লোজিং পয়েন্ট একই হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

দিনের লেনদেনে DSEX-এর সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্ট। লেনদেন শেষ হওয়ার পরও সূচকটি ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্টেই অবস্থান করে। ফলে দিনের সর্বনিম্ন ও ক্লোজিং পয়েন্ট হুবহু একই হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের প্রশ্ন, এটি কি স্বাভাবিক বাজারচিত্রের অংশ, নাকি সূচক গণনা কিংবা ক্লোজিং প্রক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারিগরি বিষয়ের ফল?

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূচক গণনায় পরিবর্তন, সফটওয়্যার ত্রুটি বা কোনো কারিগরি সমস্যার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূচকে বড় পতন

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর দিনের লেনদেন শেষে DSEX ৪৯.২৮ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ কমে ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবস ১ অক্টোবর সূচকটির অবস্থান ছিল ৫,৫৩১.৬৪ পয়েন্ট।

এদিন শরিয়াহভিত্তিক DSES সূচক ১০.৫৮ পয়েন্ট বা ০.৯৬ শতাংশ কমে ১,০৮৯.৬৮ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপভিত্তিক DS30 সূচক ১৮.২৫ পয়েন্ট বা ০.৮৭ শতাংশ কমে ২,০৮৫.২৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।

কমেছে লেনদেনের পরিমাণ

সূচকের পতনের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

দিন শেষে ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৯০৭টি ট্রেডে প্রায় ১৭ কোটি ১২ লাখ ২৮ হাজার ৮৮৮টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এর আগের কার্যদিবস ১ অক্টোবর লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে

৪ অক্টোবর ডিএসইতে ৬৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে ২৯১টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ২৮টি কোম্পানির দর।

ফলে দিনের বাজারচিত্রে বিক্রয়চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সর্বনিম্ন ও ক্লোজিং একই, কেন?

দিনের ইন্ট্রা-ডে সূচকচিত্রে দেখা যায়, লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে DSEX নিম্নমুখী ছিল। একপর্যায়ে সূচকটি দিনের সর্বনিম্ন ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে এবং দিন শেষে একই পয়েন্টে ক্লোজ করে।

সর্বনিম্ন ও ক্লোজিং পয়েন্ট একই হওয়াটিই এখন বিনিয়োগকারীদের আলোচনার অন্যতম বিষয়।

তাদের প্রশ্ন, সূচক গণনার পদ্ধতিতে কি সম্প্রতি কোনো পরিবর্তন এসেছে? নাকি দিনের শেষভাগের লেনদেনের ধরন এমন ছিল যে সর্বনিম্ন অবস্থান থেকেই সূচকটি ক্লোজ করেছে?

শুধু একটি দিনের ইন্ট্রা-ডে চার্ট দেখে অবশ্য কোনো কারিগরি ত্রুটি বা সূচক গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যুক্তিসঙ্গত নয়। DSEX কীভাবে দিনের শেষ অবস্থান নির্ধারণ করেছে, সে বিষয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারে।

শুধু আজ নয়, সেপ্টেম্বরেও দেখা গেছে একই ধরনের চিত্র

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৪ অক্টোবরের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। এর আগেও গত সেপ্টেম্বর মাসে DSEX-এর সর্বনিম্ন অবস্থান এবং দিনের ক্লোজিং অবস্থান একই বা অত্যন্ত কাছাকাছি থাকার এমন চিত্র দেখা গেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

ফলে বিষয়টি এখন শুধু একটি দিনের কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট দিনগুলোর তথ্য পাশাপাশি পর্যালোচনা করে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

একটি নির্দিষ্ট দিনে এমন ঘটনা ঘটলে সেটিকে স্বাভাবিক বাজারচিত্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু একই ধরনের চিত্র একাধিক সময়ে দেখা গেলে সূচক গণনা, দিনের শেষ মূল্য নির্ধারণ এবং ক্লোজিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আস্থার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা

শেয়ারবাজারে সূচকের প্রতিটি পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বাজার যখন নিম্নমুখী এবং লেনদেনের পরিমাণও কমে আসে, তখন সূচক গণনা ও বাজারের তথ্য উপস্থাপনে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

তাই ৪ অক্টোবর DSEX-এর সর্বনিম্ন ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্ট এবং একই ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্টে ক্লোজিং হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক বাজারপ্রক্রিয়ার অংশ হলে সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট গণনাপদ্ধতি, ক্লোজিং প্রক্রিয়া বা কারিগরি বিষয় থাকলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হলে বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল দূর হবে।

এখানে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা সূচক গণনায় পরিবর্তন হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের সংশ্লিষ্ট দিনের তথ্য এবং ডিএসইর সূচক গণনার পদ্ধতি পর্যালোচনা করা জরুরি।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন তাই পরিষ্কার: সর্বনিম্ন ও ক্লোজিং একই হওয়া কি স্বাভাবিক সূচক গণনার ফল, নাকি এর পেছনে ক্লোজিং ও সূচক নির্ধারণের এমন কোনো প্রক্রিয়া রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জানা প্রয়োজন?

শেয়ারবাজারে শুধু সূচকের ওঠানামাই নয়, তথ্যের স্বচ্ছতা ও ব্যাখ্যাযোগ্যতাও বিনিয়োগকারীদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।