আজকের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষণে দেখা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্য সূচকের উঠানামা মধ্য থাকলেও দিনশেষে নেতিবাচক প্রবানতার মধ্য দিয়েই আজকের লেনদেন শেষ হয়েছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে এবং দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৭৩ শেয়ারের। আজ ডিএসইতে ৬৬৫.৬৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গতকাল লেনদেন হয়েছিল ৬২৬.৮৭ কোটি টাকার।

ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৯.০৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬৩২৪.৮০ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোও নেতিবাচক ধারাতে শেষ হয়েছে।
অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও মূল্য সূচকের উঠানামার মধ্য থাকলেও দিনশেষে নেতিবাচক প্রবানতার মধ্য দিয়েই আজকের লেনদেন শেষ হয়েছে, লেনদেন ও নেতিতিবাচক ধারাতে শেষ হয়েছে।

আজ সিএসইতে ১০.৬৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গতকাল লেনদেন হয়েছিল ১৫.৮১ কোটি টাকার।
ইদানীং বাজারের মতিগতিই যেন বুঝতে পারছেনা বিনিয়োগকারীরা। সূচক ও লেনদেন বাড়লেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের কোন লাভ লস হচ্ছেনা, বিশেষ করে যাদের শেয়ার ফ্লোরে আটকে আছেন, তারা চেয়ে চেয়ে দেখছেন বাজার। কিছুই করার নেই তাদের।
আজ বাজার চলাকালীন সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে গিয়ে দেখা গেল হাউজের অফিসার ও বিনিয়োগকারীরা একটি বিষয় নিয়ে আলাপ করতে। মোটামুটি সবার কথার সারমর্ম হলো হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি শেয়ারই বাজারকে দখল করে নিয়েছে। দেখা যায় লেনদেনে টপ ২০ শেয়ারে যে লেনদেন হয়, তা বাজারের বাকি অন্য সব কোম্পানিগুলোর ৫০ শতাংশের ও বেশি লেনদেন হচ্ছে।
হাতে গোনা কয়েকটি শেয়ার বাজার দখল করে নিয়েছে, লাভ পাচ্ছে অল্প কিছু লোকজন। বাজার হার্ডিং ইফেক্টে আসক্ত, যখন কোন শেয়ার বাড়ে , তখন যে গতিতে বাড়ে, কমেও সেই গতিতেই। যে কারণে বাজারে চলছে অস্থিরতা ।
মাঝে মধ্যে বাজার বাড়লেও , লাভ পাচ্ছে অল্প কিছু লোকজন।
এছাড়া একজন বিনিয়োগকারী হতাস হয়ে বললেন- তার দেখা সবচেয়ে ক্রিটিকাল বাজার যাচ্ছে এই মূহুর্তে। আজ যা বাড়ছে ১দিন বেড়েই তা আবার দাম পতন হচ্ছে। তাই একদম লেনদেন করতে পারছিনা।
জনৈক প্রবীণ বিনিয়োগকারী বলেন একটু দাম বাড়লেই লোকজন বিক্রি করছে, তাই বাজার দাড়াতে পারছেনা। তিনি দাবি করছেন ইন্সটিটিউট লেবেলে যেন ডে ট্রেডিং বন্ধ করুক, তাহলে বাজার ভালো হবে।
আজকের এই বিষয় গুলো নিয়ে একজন অভিজ্ঞ বাজার বিশ্লেষকের সাথে টেলিফোনে কথা বলা হলে- তিনি সহজাত ভাষায় উত্তরে বলেন, লাভ হলে লাভ তুলে নিবে, এখানে কাউকে তো আটকানো যাবেনা। ইন্সটিটিউট লেবেলে ডে ট্রেডিং করলো, না বিনিয়োগ করল তা নিয়ে তো আর তাদের ফোর্স করা যাবেনা।
কর্তৃপক্ষ যা পারে সেটা হলো অন্যায় ও অনিয়ম যেন কেউ না করতে পারে, সে ব্যাপারে তদারকি করা। বাজারের অনিয়ম বন্ধ হলেই বাজার স্বাভাবিক হবে বলে তিনি মনে করেন।