অর্থ লিপি

১ মে ২০২৬ শুক্রবার ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্যাক্সের হার নয়, করের আওতা বাড়াতে হবে রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের রাজস্ব বাড়াতে হলে শুধুমাত্র ট্যাক্সের হার বাড়ানো যথেষ্ট নয়। করের আওতা সম্প্রসারণ করে আরও বেশি মানুষকে করদাতার মধ্যে আনা প্রয়োজন। একই জনগোষ্ঠীর ওপর বারবার কর চাপানো স্বাভাবিক নয় এবং এতে জনগণের অসন্তোষও বাড়ে।

উচ্চ আয় ও বড় ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সঠিকভাবে করের আওতায় আনলে সরকার লাভবান হবে, পাশাপাশি সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপও কমবে। ন্যায্য ও স্বচ্ছ করনীতি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য

দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার।

গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় প্রস্তাবিত একটি সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্যাক্সের হার বাড়ানো নয়—করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোই কার্যকর উপায়। দেশে বহু কোটিপতি আছেন, যারা প্রকৃত আয়ের তুলনায় কর দেন না বা করের আওতার বাইরে থাকেন। অপরদিকে, চাকরিজীবীরা যে টাকা আয় করেন, তারা নিয়ম মেনে কর দিচ্ছেন।

এভাবে বৈষম্য চলতে পারে না। কর ব্যবস্থা সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। শুধু বেতন ভোগী নয়, যাদের প্রকৃত সামর্থ্য আছে, উচ্চ আয় আছে, বড় ব্যবসা আছে—তাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে করের আওতায় আনা জরুরি।

কর ও রাজস্ব নীতি

রাষ্ট্র পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— সব ক্ষেত্রে করই প্রধান উৎস। তাই কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ন্যায্য করনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে, নাগরিকরাও আস্থা ফিরে পাবে।

রাজস্ব বাড়াতে হলে করের হার নয়, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এতে সরকারের আয় বাড়বে, পাশাপাশি সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপও কমবে। সুশাসন থাকলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতেও আগ্রহী হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবী এবং সাবেক এমপিদের সম্পদ ও ট্যাক্স ফাইল সঠিক ভাবে যাচাই করলে অনেক অসঙ্গতি বেরিয়ে আসবে। প্রতিটি শহর, জেলা ও থানায় গড়ে ওঠা হাইরাইজ ভবনগুলোর কর আদায় নিশ্চিত করলে রাষ্ট্রীয় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আয়কর বিভাগ ও এনবিআরকে কঠোর ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব দিলে ট্যাক্স থেকে সরকারের আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

রাজস্ব বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং সবার জন্য সমান কর প্রয়োগ। করের আওতা বাড়িয়ে, সবাইকে দায়িত্বশীল করদাতা হিসেবে যুক্ত করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।