মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’
আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দানকালে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক একটি নৃশংস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী গণহত্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে নৃশংস সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাস ধরে গণহত্যায় লাখ লাখ সাধারণ নারী, পুরুষ, শিশু এবং যুবক-যুবতী সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। আমাদের জনগণ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত এবং মুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা করেছিল, যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে।
এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। বাংলাদেশের মানুষ তার ইতিহাসে এক পুনর্জন্ম প্রত্যক্ষ করেছে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সুদূরপ্রসারী সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সুশাসন, দুর্নীতি দমন এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরো জানান, এ কমিশনগুলো এরই মধ্যে তাদের সুপারিশ প্রদান করেছে, যা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তার নেতৃত্বে ও ছয়টি কমিশনের প্রধানদের অন্তর্ভুক্তিতে সাত সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে কমিশনগুলোর সুপারিশসমূহ গৃহীত ও কার্যকর করা হবে।
অনুষ্ঠানে থাই প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মেলনের চেয়ারপার্সন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।