শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ‘ইকবাল সেন্টার’ ছেড়ে তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকলে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করেছে। প্রধান কার্যালয়ের ভবন পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটির বছরে প্রায় ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এত দিন বনানীর ইকবাল সেন্টারে প্রধান কার্যালয়ের জন্য বছরে প্রায় ৭৪ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ভাড়া ও সংশ্লিষ্ট সেবা মাশুল দিতে হতো। নতুন ভবন শান্তা পিনাকলে একই ধরনের ব্যয় নেমে এসেছে বছরে প্রায় ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা-তে।
ফলে শুধু প্রধান কার্যালয়ের ভবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেই ব্যাংকটির বার্ষিক ব্যয় কমছে প্রায় ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
৭৪ কোটি টাকার ভাড়া নেমে এলো ১৮ কোটিতে
প্রিমিয়ার ব্যাংকের নথিপত্র অনুযায়ী, বনানীর ইকবাল সেন্টারের প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করত ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়।
প্রতি বর্গফুটের জন্য মাসে প্রায় ৫০৬ টাকা ভাড়া এবং এর সঙ্গে প্রতি বর্গফুটে আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা সেবা মাশুল দিতে হতো। এতে শুধু ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় হতো প্রায় ৬ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা। বছরে এই ব্যয় দাঁড়াত প্রায় ৭৪ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকলে ব্যাংকটি প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ৯২০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়েছে। নতুন ভবনে প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া ১৫০ টাকা এবং সেবা মাশুল ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে নতুন কার্যালয়ে প্রতি মাসে ভাড়া ও সেবা মাশুল বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের পর প্রতি মাসে ব্যয় কমেছে প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বার্ষিক হিসাবে সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
‘খরচ কমবে, আর্থিক সূচকের উন্নতি হবে’
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান গনমাধ্যন কর্মীদের বলেন, ব্যাংকটিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এ জন্য কর্মপরিবেশ উন্নত করতে প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখা স্থানান্তর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে ভবনের জন্য অনেক বেশি ভাড়া দিতে হতো। এখন সেই ব্যয় কমে আসছে। এতে ব্যাংকের কর্মপরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমবে এবং আর্থিক সূচকেরও উন্নতি ঘটবে।
ব্যয় কমানোর বার্তা দিচ্ছে নতুন ব্যবস্থাপনা
প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বছরে প্রায় ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয়ের তথ্যটি ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গুলশান ও বারিধারা শাখা স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ব্যাংকটির স্থাপনা ও ভাড়া ব্যয় আরও কমতে পারে।
নতুন ব্যবস্থাপনার সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, সাশ্রয় হওয়া এই অর্থকে কীভাবে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়।