দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। অনিশ্চয়তা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, যা পুঁজিবাজারে নতুন গতি আনতে পারে।
বিশ্ববাজারে সাধারণত যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়েন। ফলে শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যায় এবং সূচকে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ফলে সেই চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট তৈরি হলে তার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই উদীয়মান বাজারগুলোতেও পড়ে, যার মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারও অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ করে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসায় তেলের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা কমতে পারে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এতে করে উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কিছুটা কমবে, যা করপোরেট আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলস্বরূপ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দেশের শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধবিরতি একটি মনস্তাত্ত্বিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে সতর্কতা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে পারে। লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ইতিবাচক সংবাদই যথেষ্ট নয়; দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে ইতিবাচক থাকে, তবে পুঁজিবাজারে একটি টেকসই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গড়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য যেমন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, তেমনি এটি শেয়ারবাজারে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ইতিবাচক ধারা কতটা স্থায়ী হয় এবং বিনিয়োগকারীরা কতটা আস্থা নিয়ে বাজারে সক্রিয় হন।