অর্থ লিপি

২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

আস্থা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা! শেয়ারবাজারে লেনদেন ৫০০ কোটির ঘরে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

আস্থা এমন একটি বিষয়, যার ওপর শেয়ারবাজারের গতি অনেকটাই নির্ভরশীল। বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরলে লেনদেনের গতি কমতে যেমন বেশি সময় লাগে না, তেমনি আস্থা ফিরে এলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণও দ্রুত বাড়তে পারে।

প্রায় ছয় মাস পর আবারও শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এরই প্রভাবে একসময় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঘরে থাকা লেনদেন আজ নেমে এসেছে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে।

আজকের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বাজারে লেনদেনের এমন নিম্নগতি শুধু সূচকের ওঠানামার চিত্র নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থার অবস্থাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে একের পর এক নেতিবাচক খবর, বিভিন্ন কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে।

সূচকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আজকের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচকগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে ৫,৬৪০ দশমিক ০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকটির পতন হয়েছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ।

অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ২ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,১২৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

বাছাই করা বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ২,১২৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকটির পতন হয়েছে শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত কার্যদিবস ২৪ আগস্ট ডিএসইএক্স সূচক ৭৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমেছিল এবং সেদিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

লেনদেনে অংশগ্রহণ কমেছে

আজ ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০২টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট ১৯ কোটি ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬১টি শেয়ার।

এদিন মোট ১৭৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৫২টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টি কোম্পানির দর।

অর্থাৎ, দর বাড়া কোম্পানির সংখ্যা দর কমা কোম্পানির তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। এর প্রতিফলন দেখা গেছে মোট লেনদেনের পরিমাণে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক

আজ দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৮ দশমিক ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এরপর ফ্যামিলিটেক্স ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৫০ টাকা, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯০ টাকা, সিএনএটেক্স ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২০ টাকা এবং জি কিউ বলপেন ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৫৬০ দশমিক ৮০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

দরপতনের শীর্ষে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ

অন্যদিকে আজ দরপতনের শীর্ষে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমে ২৯ দশমিক ৭০ টাকায় নেমেছে।

এ ছাড়া ক্যাপিটেক জিবি এফ ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, টুঙ্গহাই নিটিং ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ফার্স্ট ফাইন্যান্স ৬ দশমিক ১২ শতাংশ দর হারিয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ

টাকার অঙ্কে আজ সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজে। কোম্পানিটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এরপর সাইহাম টেক্সটাইল-এ ২৩ কোটি ১৩ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক-এ ১৯ কোটি ২ লাখ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট-এ ১৫ কোটি ৩৫ লাখ এবং রানার অটোমোবাইলস-এ ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

শেয়ার সংখ্যার হিসাবে শীর্ষে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ

শেয়ার সংখ্যার হিসাবে লেনদেনের শীর্ষেও ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির প্রায় ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এরপর মিডল্যান্ড ব্যাংক ডাইং-এর প্রায় ৭৯ লাখ ৬৫ হাজার, সাইহাম টেক্সটাইল-এর ৭২ লাখ ৪৪ হাজার, ফার কেমিক্যালস-এর ৪৫ লাখ ৩২ হাজার এবং বেক্সিমকো-এর ৩৮ লাখ ১৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রাণ হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। আস্থার সংকট তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ না করে অপেক্ষার অবস্থান নেন। ফলে সূচক খুব বেশি না কমলেও লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বর্তমান বাজারে সেটিই যেন দৃশ্যমান হচ্ছে। একসময় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন হওয়া বাজার এখন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তাই শুধু সূচকের অবস্থান নয়, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গুজব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাজারে তারল্য ও লেনদেনের গতি আবারও ফিরতে পারে।

শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরবে কবে, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।