নীরব ঘাতক হাড়ক্ষয়, বাঁচার উপায় কি ?
এই পর্বে আমরা ব্লাড এসিডিটি হাড় ক্ষয়ের অন্যতম কারণ এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
আমাদের রক্ত কিছুটা ক্ষারীয় (alkaline) এবং এর pH 7.35 থেকে 7.45 এর মধ্যে থাকে। রক্তে এসিডিটি এর পরিমাণ বাড়লে pH এর মান কমে এবং এসিডিটি এর মাত্রা কমলে pH এর মান বাড়ে। রক্তের এসিড/বেইস ব্যালেন্স ঠিক রাখার দায়িত্ব ফুসফুস ও কিডনির।
দেহে কোন কারণে এসিড মাত্রা বেড়ে গেলে দেহ তা নিম্ন উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনে :
ফুসফুস অধিক পরিমাণে কার্বনডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে, ফলে এসিডিটি কমে যায়।
কিডনি বাড়তি এসিড মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়।
বাড়তি এসিড কমানোর জন্য দেহ কেমিক্যাল বাফারিং প্রক্রিয়ায় কিছু বেইস বা ক্ষার তৈরি করে – যার মধ্যে বাইকার্বোনেট মূখ্য।
বয়স যখন কম থাকে, তখন কিডনি ও বাফারিং সিস্টেম শক্তিশালী থাকে। ফলে রক্তের এসিডি/বেইস ব্যালেন্স (pH) নিয়ন্ত্রণে কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে এবং মেটাবলিক সিন্ড্রোমের কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা ও শরীরের বাফারিং ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে ব্লাড এসিডিটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
রক্তের এসিড কমানোর জন্য দরকার ক্ষারীয় পদার্থ (alkali)। হাড়ের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড় থেকে বের হয়ে রক্তের ক্ষারত্ব বাড়িয়ে এসিড/বেইস ব্যালেন্স ঠিক রাখার চেষ্টা করে। দিনের পর দিন হাড় থেকে এভাবে ক্যালসিয়াম বের হবার কারণে হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

রক্তের এসিডিটি বৃদ্ধির নেপথ্যে আমাদের খাদ্যাভ্যাসও দায়ী।
কিছু খাদ্য পরিপাক ও কোষে বিপাক হবার পর রক্তে এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এগুলোকে এসিডিক ফুড বলে। যেমন – শস্য (ভাত, রুটি, ভুট্টা), ডাল, দুধ, চিজ, সফট ড্রিংকস, মাংস, ডিম, মাছ ইত্যাদি।
আবার কতিপয় খাদ্য পরিপাক ও বিপাক শেষে রক্তের ক্ষারত্ব (alkalinity) বাড়ায় – এগুলোকে এলকালাইন ফুড বলে। যেমন – শাকসবজী, ফলমূল ও নাট।
আপনি যদি দিনের পর দিন এসিডিক ফুড বেশি খান কিন্তু এলকালাইন ফুড কম খান, তবেরক্তের pH ব্যালেন্স ঠিক রাখতে আপনার কিডনি ও বাফারিং সিস্টেমের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। একসময় দেহ নিয়ন্ত্রণ হারাবে এবং ব্লাড এসিডিটি ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। তখন দেহে নানাবিধ জটিলতা দেখা দিবে – যার অন্যতম হাড়ক্ষয়।
সুতরাং লাগাতার কেবল এসিডিক ফুড খেলে চলবে না, তাকে ব্যালেন্স করার জন্য পর্যাপ্ত এলকালাইন ফুড (শাকসবজী ও ফলমূল) খেতে হবে।
পরবর্তী পর্বে হাড়ক্ষয় প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।