আজ ১৭ ই মার্চ শুক্রবার দেশ জুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রোজার এক সপ্তাহ আগে আরও এক দফা বাড়ল।
গত ২ মাস যাবৎ প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আর তা যেন ছুটির দিন শুক্রবার বাড়ায় ইচ্ছে করে। কেননা শুক্রবার বাংলাদেশের সব অফিস আদালত বন্ধ থাকে। সময়ের সল্পতার কারণে শহরের মানুষ বন্ধের দিনেই সাপ্তাহিক বাজার করে সাধারণত। বাজারে গরুরমাংস ও ইলিশ মাছের দোকানের দিকে সাধারণ মানুষ যেতেও সাহস পাচ্ছেনা। কিনে খাওয়াতো পরের বিষয় নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের।
চৈত্র মাস শুরু ,শীতের মৌসুমি সবজি শেষ হওয়ার কারণে সবজির দামও গত সপ্তাহের চেয়েবেশি।গ্রীষ্মের নতুন যে সবজি বাজারে এসেছে সে গুলোর দাম অনেক।
প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা রকম ভেদে,বাজারে ৩ জাতের বেগুন পাওয়া যাচ্ছেএখন।আগামী সপ্তাহে আরও একদফা বাড়বে হয়ত বেগুনের দাম।করলা ১১০ থেকে ১২০টাকা, বরবটি ১০০থেকে ১১৫টাকা, পটল ৫০ থেকে ৭৫ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরেবিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিচ চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও আদা রসুনের দামবেড়েছে এবং এক দোকানে এক এক দাম। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে দেশি ছোট ১৫০টাকা, আমদানি করা বড় আদা ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। রসুন দেশিগুলি এক এক দোকানেএক এক দাম ,আমদানি করা রসুন গুলির দাম বেশি।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দোকানে দাম কষাকষি করতে দেখা গেল ক্রেতা বিক্রেতাদের।বিক্রেতারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন ক্রেতার সাথে, নিলে নেন না নিলে না যান, এক টাকাওকমানো যাবেনা দাম। গত ১ মাস যাবৎ মুরগি ও ডিমের দাম যেন বেড়েই চলছে কমার কোননামই নেই।
কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগির দাম এখন ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা। আবার সেটা এক একদোকানে একেকরকম।ডিম পারা লেয়ার মুরগির কেজি ৩১০থেকে ৩৩০ টাকা, সোনালিমুরগীর কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। দেশি মুরগীর দাম চাইল ৭০০ টাকা।একটি হাসেরদাম ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রেতা দাম হাকচ্ছেন, যার কাছে যা রাখতে পারে।
ডিমের দোকানে ফার্মের মুরগির লাল ডিম হালি প্রতি ডিমের দাম ৪৫ টাকা। ফার্মের মুরগিরসাদা ডিম ৪২ টাকা , হাসের ডিমের দাম একেক দোকানে এক রকম।
মাছের বাজারে হাহাকার ইলিশ মাছ ও বড় মাছের দোকানের দিকে মানুষ খুব কম যাচ্ছে।বেশির ভাগ মানুষই চাষের মাছের দোকান গুলিতে ভির করতে দেখা গেল। এদিকে কম দামিচাষের মাছে ক্রেতাদের ভির থাকার কারণে কেজি প্রতি গত সপ্তাহের চাইতে দাম বেড়েছে প্রায়৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। চাষের চিংড়ির পাশাপাশি দেশি বিভিন্ন রকমের চিংড়ি ও অন্যান্যমাছের বেশ দামও চড়া।
নিন্ম আয়ের মানুষদের চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও সামুদ্রিক মাছের দোকান গুলিতে বেশিভির করতে দেখা গেল। এগুলোতে দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের চেয়ে। বাজারে সব চেয়ে কমদামেই ছিল তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ, গত সপ্তাহের চেয়ে এই দুই জাতের মাছে ও কেজি প্রতি২০/৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারের অন্য সব মাছের দামই গত সপ্তাহের চেয়েদাম বেড়েছে।
সামনেই রোজা শুরু হবে এখনই যেন মুদি বাজারের সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দামেআগুন লেগেছে। তেল, চিনি, আটা, ময়দা, গুঁড়া দুধসহ অন্যান্য বেশ কিছু পণ্য বাড়তি দামেবিক্রি হচ্ছে সপ্তাহের ব্যবধানে। সামনে রোজা তাই সব ধরনের ডালেরই গত সপ্তাহের চেয়েদাম বেড়েছে।মসলার দাম আর একদফা বেড়েছে গত সপ্তাহের চেয়ে।
আজ মিরপুরের দুটি বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর মানুষ বিভিন্ন দোকানে দর কষাকষি করেদেখছেন, কিছু কমে কেনাকাটা করা যায় কিনা। গরুর মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা গেল প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দামে। পাশেই অনেক গুলো খাসির মাংসেরদোকানে খাসির মাংসের দাম প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১১২০ টাকা রকম ভেদে। কয়েকটিদোকানে মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে।
বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা মধ্য বয়সী একজন ভদ্রলোক ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কমকে বলেন, ‘বাজারে আসলে অসহায় লাগে নিজেকে। এমন অস্বাভাবিক দাম হবার কারণেপরিবারের চাহিদামত বাজার করতে পারিনা, ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকাতেই দুশ্চিন্তায়ভরে যায় মন’। এমন আক্ষেপ কথা বলেছিলেন এরকম আরও বেশ কয়েক জন ক্রেতা ঢাকাশেয়ার বাজার ডট কম কে।
সার্বিকভাবে দুটি বাজারের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম দেখে যা মনে হলো ক্রেতাদের উচিৎ প্রতিটি পণ্যের দাম যাছাই বাছাই করে ক্রয় করা।তাহলে কিছুটা কম দামে ক্রয় করাযাবে।
সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা। প্রতি বছররোজা আসলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ে সাধারণত। কিন্তু এবার রোজার আগেইকয়েক দফা দাম বাড়ার কারণে মানুষ ভয়াবহ চাপে আছে। তাই সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবেবাজার তদারকি করা, যা তাদের একান্ত দায়িত্বও বটে।
দুখঃজনক হলেও সত্য এবছরের মতো আর কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের জন্যে মানুষদের এত অসহায় হতে দেখা যায় নি।