আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ও ১০-১৫ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর ও কমিশনারেট কার্যালয়ে উদযাপিত হবে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সময়মতো নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’।
জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ রাজস্ব ভবনে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।
‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা আমদানি নির্ভর হওয়ায় চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এ চাপ কমাতে আয়কর ও ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্সের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে ভ্যাট ও আয়করে জোর দেয়া হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নেট ছোট হওয়ায় বড় সমস্যা রয়েছে। ৩ কোটি টাকা থেকে টার্নওভার কমিয়ে ৫০ লাখে আনা হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়েনি। এবার অন্তত ১ লাখ নতুন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন জটিল হওয়ায় ২০১২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আবার নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই এবার ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে বিভিন্ন হারের পরিবর্তে একক হার বা ‘সিঙ্গেল রেট’ চালুর চেষ্টা করা হবে। ভ্যাট সহজ করা গেলে অটোমেশনও সহজ হবে-কারণ অতিরিক্ত জটিল প্রক্রিয়া মেশিনেও সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন। ব্যবসায়ীদের বুঝতে হবে-ভ্যাট তারা দেন না; এ ভ্যাট দেন ভোক্তারা। তাই পুরো প্রক্রিয়া যান্ত্রিকীকরণ বা অটোমেটেড করা গেলে রাজস্ব সংগ্রহ অনেক বাড়বে। জিডিপির বড় অংশকে এখনো কর-নেটে আনা সম্ভব হয়নি-সে জায়গায় কাজ চলছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে রাষ্ট্রীয় সেবা টেকসই হবে না। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে টেকসই রাজস্ব সংগ্রহ অপরিহার্য।
এদিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস এবং ১০-১৫ ডিসেম্বর ভ্যাট সপ্তাহ পালন করছে। নিবন্ধনকে গুরুত্ব দিয়ে চলতি বছরের ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সময়মতো নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’। এ প্রতিপাদ্যকে গুরুত্ব দিয়ে ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে; যার উদ্দেশ্য হবে ১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন দেয়া। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার।
বিগত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে। ভ্যাট আদায় ব্যবস্থাপনা জোরদার করার মাধ্যমে ভ্যাটের আদায় উত্তরোত্তর বাড়িয়ে দেশের আর্থিক বুনিয়াদ মজবুত করা সম্ভব।
দেশের জনগণ পরিশোধিত রাজস্ব সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও রেল অবকাঠামো নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ভর্তুকি দেয়াসহ নানা ধরনের জনকল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।
ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে- যেমন অনিবন্ধিত ব্যবসা, পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের অভাব, রেয়াত-শৃঙ্খল কার্যকর না হওয়া, অতিরিক্ত অব্যাহতি, ম্যানুয়াল অডিট ব্যবস্থা, ই-কমার্স ও উদীয়মান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করতে না পারা প্রভৃতি। বিদ্যমান এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন গ্রহণ, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ই-অডিট, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় ‘রিস্ক-বেসড’ অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।