রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না অভিযোগ করে ডাঃ সংযুক্তা সাহা বলেছেন, নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; কিন্তু দোষ দিয়েছে আমার ওপর। এছাড়া মাহবুবা রহমান আঁখিকে ভর্তির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেয়নি বলে জানিয়েছেন ডাঃ সংযুক্তা।
মঙ্গলবার (২০ জুন) রাজধানীর পরীবাগের নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
সংযুক্তা সাহা বলেন, ‘সেন্ট্রাল হাসপাতালকে চ্যালেঞ্জ করছি, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে আমার নামে। আমি সেখানকার কর্মী। ভুল করেছে হাসপাতাল; কিন্তু দোষ দিয়েছে আমাকে। যে কারণে মামলায় আমার নাম নেই। অথচ মিথ্যা তথ্যের কারণে আমি আজ হেনস্থার শিকার। আর আঁখি আমার নিয়মিত রোগী ছিলেন না।’
এর আগে, নবজাতক ও মা মাহবুবা রহমান আঁখির চিকিৎসায় নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেন হাসপাতালের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ডাক্তার এ টি এম নজরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার (১৯শে জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আঁখির চিকিৎসায় হাসপাতালের অবশ্যই গাফিলতি ছিল। গাফিলতি ছিল প্রথমত ডাঃ সংযুক্তা সাহার, তারপর ওটির চিকিৎসকদের। কারণ সে সময় তারা সিনিয়র ডাক্তারদের ডাকেননি। আমরা এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আসার কথা। ইতোমধ্যে ৫ দিন চলে গেছে, আর বাকি আছে ২ দিন। আশা করছি, এ সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’
সেন্ট্রাল হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের পর মা মাহমুদা রহমান আঁখি গত রোববার (১৮ই জুন) দুপুর ২টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান। আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ই জুন প্রসব ব্যথা শুরু হলে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাঃ সংযুক্তা সাহার অধীনে আঁখিকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেই সময় ডাঃ সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, তিনি আছেন এবং অপারেশন থিয়েটারে কাজ করছেন।
এক পর্যায়ে আঁখি সেন্সলেস হয়ে যান। এমন অবস্থায় ডেলিভারি করলে হার্টবিট বন্ধ হয়ে আইসিউতে মারা যায় নবজাতক। এমন ঘটনার পর আঁখিকে সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুতে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি
ল্যাবএইডের চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের কিডনি, লিভার, হার্ট এবং অন্য কোনো অংশ কাজ করছিল না। এর মধ্যে ব্রেন স্ট্রোক করেন আঁখি, রক্তক্ষরণও বন্ধ হচ্ছিল না। সেন্ট্রাল হাসপাতালের এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সসহ ১১ জনকে বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া বুধবার (১৪ই জুন) ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু এবং মা মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ার ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা করা হয়। মামলায় ডাঃ শাহজাদী, ডাঃ মুনা, ডাঃ মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর বুধবার রাতেই ডাঃ শাহজাদী ও ডাঃ মুনাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ডাঃ শাহজাদী ও ডাঃ মুনা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠিত তদন্ত টিম গত শুক্রবার (১৬ই জুন) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে। পরে সেন্ট্রাল হাসপাতালে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সংযুক্তা সাহা হাসপাতালটিতে আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দিতে পারবেন না বলেও জানানো হয়।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।