২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে চালু হচ্ছে সমন্বিত ‘ব্যাক অফিস সফটওয়্যার’। এ ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। তাই সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থের হিসাবে কোনো গড়মিল না হয়, সে জন্য সমন্বিত সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গতকাল সোমবার(২রা অক্টোবর) ২০২৩ বিএসইসি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিএসইসি এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দেখতে লিংকে ক্লিক করুন
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩১শে মার্চের মধ্যে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত সব ব্রোকারেজ হাউসকে সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যে সমন্বিত এ সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরির জন্যও দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই নীতিমালার আলোকে এ বছরের মধ্যে সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে বলা হয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে। অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই সমন্বিত এ সফটওয়্যার সংগ্রহ করতে হবে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে।
তবে যেসব ব্রোকারেজ হাউস এরই মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে ব্যাক অফিস সফটওয়্যার তৈরি করে ফেলেছে, সেসব ব্রোকারেজ হাউসকে স্টক এক্সচেঞ্জের তৈরি করা নীতিমালা মেনে ওই সফটওয়্যারের বিপরীতে সনদ নিতে হবে। অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জ অনুমোদিত বা এক্সচেঞ্জের সনদপ্রাপ্ত ব্যাক অফিস সফটওয়্যারই ব্যবহার করতে হবে সব ব্রোকারেজ হাউসকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত বিওএস চালু হলে তাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনিয়ম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সমন্বিত সফটওয়্যার চালু হলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে অনিয়ম কমে আসবে। কারণ, স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমতি ছাড়া কোন ব্রোকারেজ হাউস এ সফটওয়্যারের কোনো তথ্য বা ডেটা পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারবে না। আবার এ সফটওয়্যারের পাসওয়ার্ডও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর হাতে রাখা হবে না। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
বিএসইসি বলছে, শেয়ার বাজারে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাক অফিস সফটওয়্যারে অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এত দিন ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের নিজেদের পছন্দের সফটওয়্যার ব্যবহার করে আসছিল। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত কোনো সফটওয়্যার ছিল না। এত দিন ব্রোকারেজ হাউসগুলো যেসব ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করছিল, সেগুলোর অনেকগুলোতে চাইলে সংরক্ষিত তথ্য বা ডেটা পরিবর্তন ও মুছে ফেলার সুযোগ ছিল।
আর পরিবর্তন বা মুছে ফেলার তথ্য সংরক্ষণেরও কোন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ ভিন্ন কিছু করার সুযোগ ছিল।
করোনা পরবর্তী সময়ে শেয়ারবাজারের বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের অপব্যবহার করে বিনিয়োগকারীর শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো বিনিয়োগকারীরা তাঁদের চুরি হওয়া অর্থ ও শেয়ার ফেরত পাননি। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে চারটি ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো- তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোং।
বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোন ব্রোকারেজ হাউস কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, তার জন্য অনুমতি নিতে হয় স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে। কিন্তু এক শ্রেণির ব্রোকারেজ হাউস অনুমতি না নিয়েই নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয় বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করছে। গত বছর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউসের সফটওয়্যার ব্যবহারের অনিয়ম ধরা পরে।
গত বছর বিএসইসির নির্দেশে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর জানতে পারে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর একটি সফটওয়্যারের সঙ্গে আরেকটির কোন মিল নেই। শেয়ার সংরক্ষণ ও লেনদেন নিষ্পত্তিকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তিও নেই অনেক সফটওয়্যারের। ফলে ব্রোকারেজ হাউসগুলো সহজেই সফটওয়্যারের ডেটা বদলে (এডিট) ফেলতে পারে।
গত বছর ডিএসইর পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে ২৩৫টি ব্রোকারেজ হাউসের সফটওয়্যার ব্যবহারের তালিকা পাঠানো হয়। ওই তালিকায় বলা হয়, এসব ব্রোকারেজ হাউসে ১৯ টি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
তবে এসব সফটওয়্যার সরবরাহকারী বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই কোনো ওয়েবসাইট নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কে তথ্য জানারও কোনো উপায় নেই। তাদের কোনো সমিতি বা অ্যাসোসিয়েশনও নেই।
এমন এক পরিস্থিতিতে বিএসইসি শেয়ারবাজারে সমন্বিত বিওএস বা ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সংস্থাটি বলছে, আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে যেসব ব্রোকারেজ হাউস সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবহার করবে না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে এসব ব্রোকারেজ হাউস এর ফ্রি লিমিট সুবিধা বন্ধ থাকবে,প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিওতে কোনো কোটা সুবিধা পাবে না।স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা শেয়ারের বিপরীতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো লভ্যাংশ বিতরণও স্থগিত থাকবে।নতুন শাখা বা ডিজিটাল বুথ স্থাপন স্থগিত থাকবে।
নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগটি আপামর বিনিয়োগকারীদের জন্যে একটি ভালো পদক্ষেপ ।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।