সারা বিশ্ব জুড়েই সব দেশেই রয়েছে শেয়ার বাজার। শেয়ার বাজার উন্নত দেশ গুলো উন্নতির বিশেষ ভিত্তি। তবে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার অন্য সব দেশের চেয়ে যেন আলাদা। অন্য সব দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে সেই সব দেশের শেয়ার মার্কেটের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতি হলেও মুখ থুবড়ে পরে আছে আমাদের দেশের শেয়ার বাজার।
কেন পরে আছে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এর সদুত্তর নীতিনির্ধারণীরাও যেন বুঝতে পারছেন না।
মূলত দুর্নীতি ও বাজার নিয়ে সঠিক ভাবে কাজ না করার কারণে দেশের শেয়ার বাজারের এই দুর্গতি বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। কিন্তু নীতিনির্ধারণীরা যেন অবুঝ ও অন্ধ।
দেশের মানুষকে এখন যেন সৎ, সত্য খবরের চেয়ে ভুলভাল, মিথ্যা ও চটকদার বিষয়ই বেশি আকৃষ্ট করে। মানুষ এখন খুব বেশি মরীচিকার পিছনেই ছুটে। নিজের বুদ্ধি, বিবেচনা ও নিজস্ব পরিপাটি সিদ্ধান্ত জলাঞ্জলি দিতেই পছন্দ করেন।
সর্বশেষে নিজের নেয়া ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কপালকে দোষ দেন বা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ বা সংস্থাকে দোষ দেয়। দোষটা তার নিজের কতটা? তা ভাবার শক্তিই যেন বেকার হয়ে যাচ্ছে। বাঙালি যেন সঠিক চিন্তা করতে বা ভাবতেই ভুলে গেছে।
পুঁজিবাজার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি থেকে শেয়ার বাজার নিয়ে বিভিন্ন গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয়, এক শ্রেণির ধান্দাবাজ খারাপ প্রকৃতির লোকজন। গুজব ছড়িয়ে আতংকিত করাই এদের মূল কাজ। বাজারে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা নিতে নেয় এই কারসাজি চক্র। এদের দালালরা বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে সাধারণত গুজব দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে থাকে।
অনেক সাধারণ মানুষ অনেক কিছু না বুঝে, না জেনে না ভেবে এসব গুজব শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজেরা পেনিক হয় এবং অন্যদের পেনিক করে। অনেকেই এসবের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
এইসব গুজবকারীদের কঠোর ভাবে দমন করা দরকার। এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে যে কোন লোক গুজব ছড়াতে ভয় পায়। ও কোন কিছু ছড়ানোর আগে ১০ বার ভাবেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আগে বেশ কয়েক জনকে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোর দায়ে শাস্তির আওতাধীন করেছিল। তাদের আরো মনিটরিং বাড়ানো উচিৎ, তাহলে গুজবকারীরা গুজব ছড়াতে ভয় পাবে এবং বিরত থাকবে। বাজার উন্নয়নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবকারীরা তাদের কঠোর শাস্তির আওতাধীন করতে হবে।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশের শেয়ার বাজার লজ্জাবতী গাছের পাতার মতো অবস্থা। আলতো ছোয়া পেলেই যেভাবে লজ্জাবতী গাছের পাতা চুপসে যায়, ঠিক তেমনি যে কোন অপ্রাসংগিক ইস্যু পেলেও যেন শেয়ার বাজার চুপসে যাচ্ছে লজ্জাবতী গাছের পাতার মতো।
সর্বোপরি শেয়ার বাজার একটি স্পর্শকাতর জায়গা, তাই শেয়ার বাজার নিয়ে যাতে গুজব ছড়াতে না পারে, এজন্য সাইবার মনিটরিং টিম শক্ত সামর্থ্য ভাবে সক্রিয় রাখা সময়ের দাবি ও একান্ত জরুরী।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল দেশের বড় খবরের কাগজ প্রথম আলো একটি খবর ছাপিয়েছিল যে, এত বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছাড়ছেন কেন ? এই খবরটি গত তিন দিন ধরে মানুষজন ফেসবুকে পোস্ট করাতে মানুষ পেনিক হয়ে পরেছে,এছারা ও কিছু মানুষের মনে আশংকা জেগেছে যে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাচ্ছে। ইরানের ইসরাইলে ড্রোন ও মিশাইল হামলাকে কেন্দ্র করে তারা আতংকিত হয়েছেন। যার চূড়ান্ত প্রভাব যেন পরেছে আজকের দেশের শেয়ার বাজারে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।