অর্থ লিপি

২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার ৮ কার্তিক ১৪৩৩

লাগামহীন সবজির বাজার, আবার ও ঊর্ধ্বমুখী চাল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের  ২ টি পাইকারি ও ৩ টি খুচরা  বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে  অধিকাংশ সবজির দাম আকাশছোঁয়া।কাচা মরিচের দাম কেজি ছাড়িয়েছে ২৫০ টাকার ও বেশি, বেশ কিছু সবজি কেজিতে আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।আগের সপ্তাহের চাইতে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে চাল। দাম বেড়েছে ডিমেরও, ডজন ১৫০ ছাড়িয়েছে ,এছাড়া ঊর্ধ্বমুখী  মাছের বাজার।তবে দাম কমেছে মুরগির ,গরুর মাংসের চাহিদা কম থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে দোকানভেদে।

২/৩ মাস আগে ডিমের কিছুটা দাম স্থিতিশীল হলেও ফের খুচরা দোকানে ডিমের দাম বেশি দেখা গেছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০/৬০ টাকা দরে। তবে বড় বাজারে ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় মিলছে।

আলুর সংকট না থাকলেও  দাম কমছে না। ৬০–৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আলু সাইজভেধে। অথচ বিগত বছরগুলিতে এই সময়আলু বিক্রি হত ২৫/৩০ টাকা কেজি দরে।চড়া বাজারে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে  ৮৫-৯০ টাকা, পুরাতন পেঁয়াজ দেশি ৯৫/১১১৫ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৯০/১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সাইজ ভেধে।

স্থান ও মানভেদে ভেদে পাকা টমেটোর কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, করলা ৭০–৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স ৬০/৭০ টাকা, বিভিন্ন জাতেরবেগুন ৬০/৮০ টাকা,  পটল ৫৫-৭০ টাকা, বরবটি ১০০–১২০ টাকাও কাঁচা পেঁপে ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

স্থান ও মানভেদে কাঁচা মরিচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৯০ টাকা,  ঝিঙা ৮০–৯০, কচুর লতি ৭০–১০০ টাকা, কচুর মুখী ১০০–১২০ টাকা, গাজর ৬০-৮০ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা ও কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০–৪০ টাকায়।

লাল শাকের আঁটি ১০/১৫ টাকা, লাউ শাক ৩০–৪০ টাকা, পুই শাক ৩০-৪০ টাকা, পালং শাক ২৫–৩০ টাকা, কলমি শাক ১৫–২০ টাকা আঁটি বিক্রি করতে দেখাগেছে।

মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা গেছ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে দোকানভেধে।ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার ও সোনালি জাতেরমুরগির কস্থানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশিমুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস আগের মতোই ১০৫০ থেকে ১১০০টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।অনেকটা একই দামে বিক্রি হচ্ছে চাষের কই ও তেলাপিয়া। আকারভেদে রুই–কাতলার দামহাঁকানো হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।শোল মাছ প্রতি কেজি ৬০০–৬৫০ টাকা এবং শিং মাছ ও বাইলা মাছ প্রতি কেজি প্রকারভেদে ৫০০–৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০, মলা ৫০০, কাচকি মাছ ৬০০, বাতাসি টেংরা ৯০০, অন্য জাতের টেংরা মাছ ৬০০ থেকে৭০০, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০, রুপচাঁদা ১ হাজার ও বাইম মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের জন্যে মানুষদের আগে এত অসহায় হতে আগে দেখা যায়নি। গত কয়েকমাস যাবৎ প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আর তা যেন ছুটির দিন শুক্রবার বাড়ায় ইচ্ছে করে। কেননা শুক্রবার বাংলাদেশের সব অফিস আদালত বন্ধ থাকে।সময়ের সল্পতার কারণে শহরের মানুষ বন্ধের দিনেই সাপ্তাহিক বাজার করে সাধারণত।

আজ ঢাকার মিরপুরের দুটি বড় বাজারের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম দেখে যা মনেহলো, ক্রেতাদের উচিৎ প্রতিটি পণ্যের দাম যাছাই বাছাই করে ক্রয় করা একই পণ্য ভিন্ন ভিন্নদোকানে এক একরকম দাম। যাছাই বাছাই করে কিনলে কিছুটা কম দামে ক্রয় করার সুযোগ পাওয়া  যাবে। বিক্রেতারা বেশি বেশি দাম চাচ্ছে একেক দোকানে এক এক দাম। কি যে একঅবস্থা সমাজের ছোট থেকে বড় সব ব্যবসায়ীরাই জিম্মি করে রাখছে ক্রেতাদের।

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম লাগামহীন কয়েক দফা দাম বাড়ার কারণে মানুষ ভয়াবহ চাপে আছে। তাই সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা, যা তাদের একান্ত দায়িত্বও বটে।

দুখঃজনক হলেও সত্য এবছরের মতো আর কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের জন্যে মানুষদের এত অসহায় হতে দেখা যায়নি।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।