অর্থ লিপি

২২ জুলাই ২০২৬ বুধবার ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ৯০ ডলার ছাড়ালো জ্বালানি তেলের দাম

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চলমান ইসরাইল-হামাস সংঘাত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এরপরে সোমবারও (১৬ অক্টোবর) জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরেই রয়ে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরাইল-হামাস সংঘাতের প্রতিক্রিয়ার প্রভাবই পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। অন্য দেশগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেটি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন।

ইসরাইল-হামাস সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড ও ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় বেঞ্চমার্কই শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৩৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯০ দশমিক ৫০ ডলারে। এছাড়া ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ৪৩ ডলারে।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। গত বছরের জুনে এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যদিও পরে তা পর্যায়ক্রমে কমতে থাকে। ফলে চলতি বছরের মে মাসে তা কমে ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি নামে। কিন্তু ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণায় আবারও উর্ধ্বমুখী হতে থাকে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম। যার কারণে এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল ৯৫ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়।

কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতের প্রভাবের পর হামাস-ইসরাইল সংঘাত তেলের বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। যদিও ইসরাইল ও ফিলিস্তিন জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল নয়, তা সত্ত্বেও এই দুই দেশের মধ্যে দেখা দেয়া সংঘাত জ্বালানির বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করছে। কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক তৃতীয়াংশই সরবরাহ হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাছাড়া যে কোনো সময়ে এই সংঘাতে ইরানের জড়িয়ে পড়ার উদ্বেগও বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ‘দ্য অরগানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম কান্ট্রিস’ বা ওপেক নামে পরিচিত। আবার ওপেকের বাইরে অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ ও ওপেকের সদস্যদের একত্রে ওপেক প্লাস নামে অভিহিত করা হয়। সেপ্টেম্বরে ওপেকের সদস্য সৌদি আরব ও রাশিয়া জানিয়েছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্মিলিতভাবে দৈনিক ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানো হবে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।