দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো পুরোপুরি আস্থা ফিরেনি। সূচকের মিশ্র প্রবণতা এবং লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বুধবারের (০৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজারে সেই অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ও ডিএস-৩০ কমলেও বেড়েছে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস। তবে সূচকের এই মিশ্র অবস্থার মধ্যেও লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বাড়ার সংখ্যা ছিল বেশি। এতে বোঝা যায়, বাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এখনো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়নি।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিনশেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ০.০৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ০২ পয়েন্ট বা ০.০৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১১০ দশমিক ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ১০৩ দশমিক ০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
কমেছে লেনদেন
সূচকের পাশাপাশি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল লেনদেনের পরিমাণ। বুধবার ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৬টি লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনে হাতবদল হয়েছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৪৭০টি শেয়ার ও ইউনিট।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম।
লেনদেনের এই কমে যাওয়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সূচক বড় ধরনের উত্থান বা পতনের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করায় বাজারে এখনো শক্তিশালী দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান
দিনের বাজারচিত্রে কিছুটা ইতিবাচক দিকও ছিল। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ১৫০টির দর কমেছে। এছাড়া ৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থাৎ সূচক সামান্য কমলেও ব্যক্তিগত কোম্পানির দরপতনের চেয়ে দরবৃদ্ধির সংখ্যা বেশি ছিল। এটি ইঙ্গিত করে, সূচকের দুর্বলতার মধ্যেও কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।
বাজারের জন্য কী বার্তা?
আজকের বাজারকে এক কথায় বলা যায় “দিকনির্দেশনাহীন সতর্ক বাজার”। একদিকে অধিক সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, অন্যদিকে প্রধান সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি ফিরে এসেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।
বিশেষ করে লেনদেনের পরিমাণ যদি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং একই সঙ্গে সূচকের পাশাপাশি অধিকাংশ ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে স্থায়ী ক্রয়চাপ তৈরি হয়, তখন বাজারে আস্থার উন্নতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সুতরাং আজকের বাজারে বড় পতন না থাকলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সূচকের মিশ্র প্রবণতা এবং লেনদেন ৫২০ কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়া বলছে, বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক। বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ভর করবে লেনদেনের ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং মৌলভিত্তির শেয়ারে নতুন করে অর্থপ্রবাহ তৈরির ওপর।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।