শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি (PREMIERBAN) গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ সংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা করেছে।
আলোচিত বছরের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে কোন লভ্যাংশ দেবে না।যদিও ব্যাংকটি গত বছর ১৩৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মুনাফা ২৮২ কোটি টাকা বা ৬৮ শতাংশ কমে গেছে।
গতকাল বুধবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২১.৭৩ টাকা , আগের অর্থবছরে ছিল ২২.০৮ টাকা।
আগামী ১৩ অক্টোবর ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ,২০২৫ তারিখ।
গত বছর ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক করোনার কারণে ২০২০ সাল থেকে লভ্যাংশ বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। এতদিন কেবল প্রভিশন সংরক্ষণে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংকের লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। এবার নতুন করে অনেক ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ হলে ঐ ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না। মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো সংস্থান ঘাটতি রেখেও আর লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। আবার মূলধন ভিত্তি সবচেয়ে ভালো থাকা এবং ভালো মুনাফা করা ব্যাংকেও সর্বোচ্চ লভ্যাংশের সীমা মানতে হবে।
একটি ব্যাংক কোনো অবস্থায় পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ কিংবা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না। ২০২৫ সালের লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর হবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, আর্থিক সক্ষমতা এবং শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয় বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে লভ্যাংশ বিতরণে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি ব্যাংক কেবল বিবেচ্য পঞ্জিকাবর্ষের মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। কোনো ভাবেই পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রেও আরো কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি হলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না। ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে কোনো ধরনের সংস্থান ঘাটতি থাকা যাবে না।
আবার সিআরআর ও এসএলআর ঘাটতির কারণে আরোপিত দণ্ড সুদ ও জরিমানা অনাদায়ি থাকলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না। প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডেফারেল সুবিধা বহাল থাকা অবস্থায় লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২২ ও ২৪ ধারা যথাযথ পরিপালন করতে হবে।
মুনাফা থাকা সত্ত্বেও কোন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, সেই বিষয়টি স্পট করে স্টক এক্সচেঞ্জকে এখনো জানায়নি ব্যাংকটি। তবে অবশ্যই উচিত ছিল লভ্যাংশ থাকা সত্তেও কেন কোন ইস্যুর কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি ব্যাংকটি।