অর্থ লিপি

১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার ১ বৈশাখ ১৪৩৩

তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল বিশ্ববাজারে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে বেড়েই চলেছে তেলের দাম। গতকাল তেহরান সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই খবরে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যদিও গত শুক্রবারমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলবে।’

আজ সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ১১৬ ডলার ১০ সেন্ট। ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। খবর অয়েল প্রাইজ ডটকমের

গতকাল রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার বলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’।

এর আগে, শুক্রবার ট্রাম্প জানান, ‘আলোচনা চলছে এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানো হয়েছে।’

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে ইয়মেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়েছে। হুতিরা ইসরায়েলের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। ফলে তেল পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক নৌপথের সংযোগপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব রয়েছে। তারা চাইলে এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে।

এদিকে, যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগী হয়েছেন। গতকাল রোববার তাঁদর বৈঠক ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা করবে পাকিস্তান।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।

এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবহন হয়, তার গন্তব্য মূলত এশিয়া। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন র‍্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো মন্দা; কেবল তেমন কিছু ঘটলেই তেলের দাম কমতে পারে।

ম্যাকনালির ভাষায়, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেলের চাহিদা কমে যায়। কথাটা কর্কশ শোনালেও তেলের দাম হ্রাসের ক্ষেত্রে তা কার্যকর উপায়।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও গ্যাসের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং আশপাশের অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন কাতারের রাস লাফান; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করে। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, দাম নির্ভর করবে তার ওপর।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আজ এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।