আমাদের মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পৌষ্টিকনালি একটা নালার মত। এর অবস্থান দেহের অভ্যন্তরে হলেও এটা প্রকৃতপক্ষে দেহের বহিস্থ জগৎ। আমরা যাই খাই না কেন, তা এত সহজে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না। কেবল খাদ্য পরিপাক হলেই তা ক্ষুদ্রান্ত্র ওবৃহদান্ত্র (small and large intestines) ভেদ করে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
আমরা যাই খাই না কেন তা পরিপাক হয়ে কেবল মাত্র পানি, এমাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড, গ্লুকোজ, ভিটামিন, মিনারেল, এন্টি–অক্সিডেন্ট ও ফাইটো–নিউট্রিয়েন্ট রূপে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। আর অবশিষ্ট অংশ মল আকারে পায়ুপথে বের হয়ে যায়।
কিছু কিছু খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান থাকে। যেমন – শাকসবজি, ফলমূল, নাটস ও সিডস, ডিম, মাছ ও মাংস। এগুলো শ্রেষ্ঠ খাদ্য।
কিছু কিছু খাদ্য আছে যেগুলো কেবলমাত্র সুগার বা ক্যালরি আছে কিন্তু অন্য উপাদান নাই বললেই চলে। যেমন – চিনি, ভাত, রুটি। এগুলো নিম্নমানের খাদ্য।
কিছু কিছু খাদ্য আছে যেগুলো মুখরোচক হলেও এগুলোতে টক্সিন কেমিক্যাল থাকে। যেমন – ভেজিটেবল অয়েল, কোল্ড ড্রিংকস, বোতলজাত জুস, ফাস্ট ফুড, ডিপ ফ্রাই ফুড, বেকারি প্রোডাক্ট, চিপস, ক্যান্ডি, কেক, বিস্কুট, ডোনাট, পাস্তা, সেমাই, চানাচুর । এগুলো অপখাদ্য বা কু–খাদ্য। এই খাবার গুলি শরীরের কোন উপকারী কাজে আসেনা ক্ষতি ছাড়া।
অপখাদ্য বা কু–খাদ্য অন্ত্রের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়। আর অন্ত্রের স্বাস্থ্য নষ্ট হলে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে টক্সিন বা বিষাক্ত কেমিক্যাল। তখন আপনার পুরো স্বাস্থ্যই নষ্ট হতে থাকে।
সুতরাং যাচ্ছেতাই পেটে প্রবেশ করালেই তা দেহের খাদ্য হয়ে যায় না।