অর্থ লিপি

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কেরুর মদ বিক্রিতে রেকর্ড

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

রাষ্ট্রায়ত্ত মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ইউনিটের করপূর্ব মুনাফা প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিটটির করপূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে ডিস্টিলারি ইউনিটের বিক্রিও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইউনিটের বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৪৪৪ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা বেশি। বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

তবে এসব হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবের আনুষ্ঠানিক নিরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

কেরুর কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি মদ আমদানিতে সরকারের কড়াকড়ির কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের চাহিদা বেড়েছে। ২০২১ সালে শুল্ক ফাঁকি রোধে বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোরতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর থেকেই কেরুর ডিস্টিলারি ব্যবসায় বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিক্রি বাড়ায় কোম্পানির মুনাফাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

কেরুর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় টানা চতুর্থ বছরের মতো ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একইভাবে টানা পঞ্চম বছরের মতো এ ইউনিটের নিট মুনাফা ১০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিস্টিলারি ইউনিটের করপূর্ব মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ কোটি টাকা করপোরেট কর দেওয়ার পর নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১৫৮ কোটি টাকা।

ডিস্টিলারি ব্যবসায় ভালো আয় হলেও কেরুর চিনি ইউনিট এখনো লোকসানে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইউনিটে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

রাব্বিক হাসান বলেন, ডিস্টিলারি ইউনিটে মুনাফা বাড়লেও চিনি পুনরুদ্ধারের হার না বাড়ায় চিনি ইউনিটের লোকসান অব্যাহত রয়েছে। এ লোকসান কমাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতীয় চিনি ইউনিট সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হলে লোকসান কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিনি ইউনিটের বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই খাতের বিক্রি প্রায় একই জায়গায় স্থির রয়েছে।

ডিস্টিলারি ব্যবসার পাশাপাশি কেরুর বাণিজ্যিক খামার, জৈব সার ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। এসব খাতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব ব্যবসায়িক খাত মিলিয়ে কেরুর সমন্বিত রাজস্ব ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৯৭ কোটি টাকা। চিনি ইউনিটের লোকসান সমন্বয় করার কারণে ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফার তুলনায় সামগ্রিক নিট মুনাফা কম ছিল।

প্রতিষ্ঠানটি আখের ছোবড়া থেকে জৈব সার উৎপাদন, বাণিজ্যিক খামার পরিচালনা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।