দেশে গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেদাঁড়িয়েছে ৯.৬৭ শতাংশে। জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ৯.৮৬। গতকাল বুধবার সর্বশেষ গতমাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
গত মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪৪ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৩৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো ৯ শতাংশের ওপরেই রয়েছে বলে বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে ।
দেশের অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশ লম্বা সময় ধরে দেখা যাচ্ছে।এটা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয়। মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব আছে।
গত মাসের যে মূল্যস্ফীতির হিসাব দেওয়া হয়েছে, সেটি মূলত গত বছরের ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করে। সেই হিসাবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির উচ্চমূল্যস্ফীতির সঙ্গে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এ চাপসামাল দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পরেছে।
মূল্যস্ফীতি হলো একধরনের করের মতো, যা ধনী–গরিব–নির্বিশেষে সবার ওপর চাপবাড়ায়। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া মানে গরিব ও মধ্যবিত্তের সংসার চালাতে ভোগান্তি বেড়েযাওয়া। এমনিতে দেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশ চড়া। তার সঙ্গে চিকিৎসা, পরিবহনসহ খাদ্যবহির্ভূত খাতেও খরচ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির এ চাপ সামালদিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ জানুয়ারি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার বাড়িয়েছেবাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি–জুনের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতির অন্যতমলক্ষ্যই ছিল মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নীতি সুদহারের পাশাপাশিবাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের সুদহার বৃদ্ধির পরও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরেই রয়েছে।
বাস্তবে কাগজেকলমে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও স্বস্তিতে নেই আমজনতা।সার্বিক পেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায় মানুষ এতটা কস্টে গত ২০ বছরেও ছিলোনা।মূল্যস্ফীতির চাপে সবচেয়ে বেশি কস্টে আছেন নিন্ম আয়ের লোকজন।