অর্থ লিপি

১৫ জুন ২০২৬ সোমবার ১ আষাঢ় ১৪৩৩

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে অনীহা দেখালে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছেঁড়া, পোড়া বা বিভিন্ন কারণে নষ্ট হওয়া টাকার বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে । এখন থেকে এ নীতিমালার আওতায় গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে নষ্ট হওয়া নোটের বিনিময় মূল্য ফেরত পাবেন।

এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যমান থাকলে ঐ নোটের বিপরীতে গ্রাহক মূল্যমানের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। এই সার্কুলারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ বিধিমালা’ কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হলো। আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এখন তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা এবারের বিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, নানা কারণে প্রচলিত নোট ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হওয়া কিংবা পুড়ে যাওয়া নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বদল করে নেওয়া যায়। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া নোট বদল করা যায়। তবে সব নোটের পুরো মূল্য পাওয়া যায় না। কেবল কোনো ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু নোটের ৯০ শতাংশের বেশি রয়েছে, এমন নোটের বিনিময় মূল্য পুরোটাই পাওয়া যাবে। এসব ক্ষেত্রে নোট তাৎক্ষণিক ভাবে বদল করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য সব ছেঁড়াফাটা নোটও তাৎক্ষণিকভাবে বদল করে দেওয়া হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, কোনো নোট দুই খণ্ডে খণ্ডিত হলে খণ্ড দুইটি সন্দেহাতীত ভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে, জমাগ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুইটির উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য নোটটির পরীক্ষা করতে অসুবিধা না হয়। দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়নি, কিন্তু পরীক্ষার সময় নাড়াচাড়ায় বিচ্ছিন্ন হতে পারে-এমন জীর্ণ নোটেরও উলটো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ লাগাতে হবে, যাতে নোটটি শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষণে অসুবিধা না হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো থেকে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহক আবেদন করতে পারবে। গ্রাহকের আবেদন ব্যাংক নিষ্পত্তি করতে না পারলে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদনপত্র প্রাপ্তির আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে এবং মূল্য প্রদানযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে মূল্য আকলন করা হবে।

অর্থাৎ সুষ্ঠু নগদ লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।