আন্দোলনে থাকবে বিএনপি ,ভোটে নয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ‘একতরফা’ তফসিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকবে বলে আভাস পাওয়া গিয়েছে । দলটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর যথাক্রমে রবিবার ও সোমবার ৪৮ ঘণ্টা হরতালের পর আবারও কর্মসূচি দেবে দলটি।প্রয়োজনে কর্মসূচির ধরন পাল্টে কোনো না কোনোভাবে মাঠে থাকার চেষ্টা করবে বিএনপি।আপাতত এমন প্লান নিয়েই আগাচ্ছে দলটি।
বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন সামনের আন্দোলন–কর্মসূচিগুলো কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সে পরিকল্পনা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি মাঠে সরকারি দলের মারমুখী আচরণে অবরোধের কর্মসূচিতে কিছুটা ঢিলেমিভাব এসেছে। এরপরও তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে আরও কঠোর কর্মসূচি হিসেবে দুই দিনের হরতালের ডাক দিতে হলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার(১৬ নভেম্বর ) এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক দফা এবং নির্বাচন কমিশন যে একতরফা তফসিল ঘোষণা করেছে, তার প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন ঘোষিত হরতালের কর্মসূচি আরও কার্যকরীভাবে পালন করা এবং সামনের দিনে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। দলটির নীতিনির্ধারকেরা নির্বাচন পর্যন্ত এ আন্দোলন টেনে নিতে চান; যা বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, একদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছে।অন্যদিকে সরকারি দলের সহযোগী হয়ে পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে বিরোধী দলকে দমনে।এমতাবস্থায় বিরোধীরা রাস্তায় নামলেই ত্রিমুখী সংঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে।এ পরিস্থিতিকে একটি ‘যুদ্ধাবস্থার’ সঙ্গে তুলনা করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন শীর্ষ নেতা। তিনি সারা দেশে অবরোধের কর্মসূচিগুলোতে পুলিশের ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ বিরোধী দলকে দমনে রাতে বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে, দিনের বেলায় বন্দুক নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে। এ যেন যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলন–কর্মসূচিগুলোর ওপর নজর রাখছেন,এমন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সেভাবে দানা বাঁধেনি। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সমমনা দলগুলোর তৎপরতা আন্দোলনের মাঠের শক্তি বাড়াতে পারেনি। বিএনপির অংগসংগঠন অনেকটা দুর্বল হয়ে পরেছে মূল নেতারা এরেস্ট হবার কারণে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।