সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের প্রবল গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পরপর দেশের পুরো দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা আওয়ামীলীগ নেতা ও সরকার ঘনিষ্ট উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের উপর চড়াও হচ্ছেন। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা ভয়ে পদত্যাগ করছেন। কেউ কেউ আত্মগোপণে আছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামও ভয়ে ছিলেন।
শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ট উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের পদত্যাগের জের ধরেই পদত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রকসংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসির) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
আজ শনিবার (১০আগস্ট) তিনি ইমেইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।পদত্যাগ করার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
জানা গেছে তিনি পদত্যাগ না করলে সরকার তাকে অপসারণ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।অন্যান্য কমিশনারদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিএসইসিকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ভেঙে যাচ্ছে কমিশন।
এর আগে গত শুক্রবার একইভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তার এক দিন পরেই বিএসইসির চেয়ারম্যানও একই পথ অনুসরণ করলেন। ফলে গত দুদিনে আর্থিক খাতের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদ থেকে দুই ব্যক্তি সরে দাঁড়ালেন।
শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলামের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে নানা অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নামে বিদেশি রোড শো করার কারণে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত ছিলেন।
শেয়ারবাজারে কারসাজিকারকদের নানাভাবে সহায়তা করতেন কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়াতে।এ ছাড়া তাঁর প্রশ্রয়ে শেয়ারবাজারে একটি চক্র গড়ে ওঠে। যাঁরা নানাভাবে সুযোগ–সুবিধা পেতেন শেয়ারবাজার থেকে অর্থ লোপাটে।