অর্থ লিপি

২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনার দাম ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে!

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বিশ্ববাজারে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। মাঝেমধ্যে সাময়িক ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।

২০২০ সালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কম সুদের হার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা-সব মিলিয়ে সোনার দাম বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত, তুরস্কসহ বিভিন্ন উদীয়মান দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুতগতিতে তাদের সোনার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান দামের প্রায় দ্বিগুণ। ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস দেয়ার আগে সোনার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলোও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবের্গের (এলবিডব্লিউবি) ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার বলেন, সুদের হার কমার প্রত্যাশা, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক সোনা ক্রয় এবং স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধিই দামের প্রধান চালিকা শক্তি।

তিনি আরও বলেন, বাজারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে যোগ হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের বিনিয়োগকারীরা। তারা সম্পদে বৈচিত্র্য আনতে সোনার বিনিয়োগ করছেন। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোনার দামে আরও গতি আসতে পারে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক এবং গবেষণার সহ-লেখক মাইকেল শুয়েহ বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বড় ও স্থিতিশীল ক্রেতারা বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে গহনা ক্রেতাদের মতো দাম-সংবেদনশীল ক্রেতাদের প্রভাব কমেছে। তার মতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোনার শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে এটিই অন্যতম বড় কারণ।

ডিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক টমাস কুল্প বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়াই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণও এ সময় আরও বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সম্পদ সংরক্ষণের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনাকে বিবেচনা করা হয়। যদিও এটি নিজে থেকে কোনো আয় তৈরি করে না, তবু সংকটের সময় এটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত।

তবে শ্যালেনবার্গার মনে করেন, অতিরিক্ত পরিমাণে স্বর্ণ রাখা সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তার মতে, একটি বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর ৫ থেকে ১০ শতাংশ স্বর্ণে রাখা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে মাইকেল শুয়েহ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যকরণ, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য বড় পরিমাণে স্বর্ণ রাখা যৌক্তিক। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়াচ্ছে।

টমাস কুল্পও স্বর্ণকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বর্ণের দামেও কখনও কখনও বড় ধরনের ওঠানামা হতে পারে। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।

ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস সব সময়ই অনিশ্চিত। তাই সব বিশ্লেষক ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত নন।

ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম বাড়লেও সম্প্রতি গোল্ড ইটিএফে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কমেছে। তাই আগামী পাঁচ বছরে স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো শক্তিশালী চালিকা শক্তি তিনি দেখছেন না।

তবে ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মাইকেল শুয়েহ তার পূর্বাভাসে অটল। তার মতে, উদীয়মান দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনার রিজার্ভ বাড়ানো অব্যাহত রাখবে। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সোনার অংশ আবারও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, যদি উদীয়মান দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৮ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে এবং রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছে, তাহলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের নামমাত্র মূল্য ৮ হাজার ডলারে উন্নীত হতে পারে।

অন্যদিকে ডিজেড ব্যাংকের টমাস কুল্প তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এমন পূর্বাভাস অস্বাভাবিক নয়। তবে আগামী ১২ মাসের মধ্যে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের স্তরে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, সোনার চাহিদার মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদেও এ ধাতু নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রয়েছে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।