মুনাফা থাকা সত্ত্বেও লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিনিষেধ ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে,গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশ দিতে পারেনি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ১৪ টি ব্যাংক।
লভ্যাংশ না দেয়া ব্যাংকগুলো হল- মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক,সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক,এক্সিম ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ ব্যাংক করোনার কারণে ২০২০ সাল থেকে লভ্যাংশ বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। এতদিন কেবল প্রভিশন সংরক্ষণে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংকের লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু এবার নতুন করে অনেক ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ হলে ঐ ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না। মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো সংস্থান ঘাটতি রেখেও আর লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। আবার মূলধন ভিত্তি সবচেয়ে ভালো থাকা এবং ভালো মুনাফা করা ব্যাংকেও সর্বোচ্চ লভ্যাংশের সীমা মানতে হবে।
একটি ব্যাংক কোনো অবস্থায় পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ কিংবা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না।আগে ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৫ সালের লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে।সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, আর্থিক সক্ষমতা এবং শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয় বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে লভ্যাংশ বিতরণে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি ব্যাংক কেবল বিবেচ্য পঞ্জিকাবর্ষের মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। কোনো ভাবেই পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রেও আরো কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি হলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না। ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে কোনো ধরনের সংস্থান ঘাটতি থাকা যাবে না।
আবার সিআরআর ও এসএলআর ঘাটতির কারণে আরোপিত দণ্ড সুদ ও জরিমানা অনাদায়ি থাকলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না। প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডেফারেল সুবিধা বহাল থাকা অবস্থায় লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২২ ও ২৪ ধারা যথাযথ পরিপালন করতে হবে।
মুনাফা থাকা সত্ত্বেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে লভ্যাংশ দিতে পারেনি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪ টি ব্যাংক।লভ্যাংশ না দেয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকারীরা।
উল্লেখ্য শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে টাকা তুলে মূলধন বাড়িয়ে বড় হলেও, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা এতদিন অবহেলিত ছিল।ব্যাংকগুলির পরিচালকগনের দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এতবছর নাম মাত্র লভ্যাংশ পেত।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালা জারি করাতে এবছর ১৪ টি ব্যাংক কোন লভ্যাংশ দিতে পারেনি।এতদিন পরিচালকগনের দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো যৎসামান্য লভ্যাংশ দিলেও এবছর কোন লভ্যাংশ না দেয়াতে ক্ষতির মধ্যে পরে গেছে বিনিয়োগকারীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল যেহেতু বেশিরভাগ ব্যাংকের পরিচালকদের দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়াতে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।তাই পরিচালকদের লভ্যাংশ না দিয়ে অল্প হলেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাশে দাড়ানো।