ইন্স্যুরেন্স খাতের শেয়ারে ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক লেনদেনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দিনের শুরুতে সূচকে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও শেষভাগে কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে নির্বাচিত খাতে ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকা এবং হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন ধরে রাখায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূচকে ইতিবাচক সমাপ্তি
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৮.৪০ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে ৫,৮৯৪.১২ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে ডিএসইএস (DSES) শরিয়াহ সূচক ০.৪৯ পয়েন্ট কমে ১,১৮৫.৯৮ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ (DS30) ব্লু-চিপ সূচক ২.৪২ পয়েন্ট কমে ২,২০১.৭৫ পয়েন্টে নেমে আসে।
দিনের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,১১৪.৪৯ কোটি টাকা। মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৫টি ট্রেডের মাধ্যমে শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৭৬টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ইন্স্যুরেন্সের নেতৃত্বে বাজারে গতি
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ইন্স্যুরেন্স খাত। এ খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ক্রয়চাপ দেখা যায়।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে জিবিবি পাওয়ার, তুং হাই টেক্সটাইল, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স এবং একমি পেস্টিসাইডস।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইন্স্যুরেন্স খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামে লেনদেন হওয়া এবং সেক্টরভিত্তিক রোটেশনের কারণে এ খাতে নতুন করে অর্থপ্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লেনদেনে শীর্ষে একমি পেস্টিসাইডস
মূল্যমানের বিচারে দিনের সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে একমি পেস্টিসাইডসের, যার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৬.০২ কোটি টাকা।
এরপর রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ (৩২.৩০ কোটি টাকা), সামিট এলাইয়েন্স পোর্ট (২৫.৬৫ কোটি টাকা), প্রাইম ইন্স্যুরেন্স (২২.৩৯ কোটি টাকা), মালেক স্পিনিং (২১.১৯ কোটি টাকা) এবং বেক্সিমকো (১৯.৬৫ কোটি টাকা)।
ব্লক মার্কেটে ৩৬ কোটি টাকার লেনদেন
দিনের ব্লক মার্কেটে ৪০টি কোম্পানির ৭৮টি লেনদেনে মোট ৩৬.৪৬ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
এর মধ্যে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজে ৫.৮৭ কোটি টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্সে ৪.৫৬ কোটি টাকা, সামিট এলাইয়েন্স পোর্টে ৩.৫১ কোটি টাকা, এসিআই ফর্মুলায় ৩.৩৯ কোটি টাকা এবং এসআইপিএলসিতে ২.৫৬ কোটি টাকার ব্লক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
বাজারের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইন্স্যুরেন্স খাতের নেতৃত্বে বাজারে ইতিবাচক গতি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে কেবল একটি খাতের ওপর নির্ভর করে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
তাদের মতে, আগামী দিনে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য ব্লু-চিপ কোম্পানিতে ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়লে বাজার আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
এছাড়া করপোরেট মুনাফা বৃদ্ধি, আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
সাসাময়িক সেক্টরভিত্তিক উচ্ছ্বাস বা গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয় সক্ষমতা, মূল্যায়ন (Valuation) এবং সেক্টর রোটেশনের ধারা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাজারে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ধৈর্যশীল বিনিয়োগই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার মূল চাবিকাঠি।