শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের(NBL) গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ব্লক মার্কেটে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৩২৫ টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজার মুল্য ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এক সময়ের ঐতিহ্যবাহি ব্যাংকটি দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও মাত্রাতিরিক্ত ঋণখেলাপি হওয়ায় লোকসানি ব্যাংকে পতিত হয়েছে।হঠাৎ ব্লক মার্কেটে লোকসানি ব্যাংকের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার লেনদেন কেন হলো ? এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট একজন অভিজ্ঞ বিশ্লেষক জানান এটা হাতবদল হয়েছে এ নিয়ে আসলে কৌতুহলের কিছূ নেই।কেউ জেনেবুঝে তো আর এত লোকসানি ব্যাংকে বিনিয়োগ করার কথা না।
উল্লেখ্য চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ২.৪৫ গুণ। আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২.৩৮ টাকা ।। গত বছর একই প্রান্তিকে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছিল ০.৯৭ টাকা । গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪.৯২ টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে ন্যাশনাল ব্যাংকের সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৪.৬৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০.১৩ টাকা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭.৩০ টাকা।
ব্যাংকটি গত ২০২১,২০২২ ও ২০২৩ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি।
৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল । ২০১৯ হিসাব বছরে মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩ হাজার ২১৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৯৭২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩২১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭০। এর মধ্যে ২৪.৭৩ শতাংশ রয়েছে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ২৯.৬৬ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.৩৫ শতাংশ বিদেশী ও বাকি ৪৫.২৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।