বাংলাদেশে বেশকিছু কোম্পানি বিগত কয়েক বছর ধরে করপোরেট খাতে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) মানদণ্ড অনুসরণের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ।
ব্লুমবার্গের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান।
কোম্পানিগুলো হল- লাফার্জ হোলসিম, এমজেএল বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, বিএসআরএম স্টিলস, স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক ।
ব্লুমবার্গের তালিকায় তিন ক্যাটাগরিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও সিটি ব্যাংক। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শীর্ষ তিন অবস্থানে রয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, এমজেএল বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্লুমবার্গের ইএসজি রেটিং মূলত একটি বিশ্লেষণাত্মক টুল, যা বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক ও নিয়ন্ত্রকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন ও দায়িত্বশীলতার মানসম্মত ও তুলনাযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়।
ব্লুমবার্গের সর্বশেষ তালিকায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান শীর্ষে। সুশাসন ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৩ দশমিক ২১ স্কোর। এছাড়া পরিবেশ ক্যাটাগরিতে শূন্য দশমিক ৭২ ও সামাজিক ক্যাটাগরিতে ৩ দশমিক ৭২ স্কোর নিয়ে মোট ইএসজি রেটিং গড়ে ১ দশমিক ৯১।
ইএসজি রেটিংয়ে সুশাসন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি। এ ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটির মোট স্কোর ৩ দশমিক শূন্য ৫। যদিও ইএসজি রেটিংয়ে এমজেএল বাংলাদেশের অবস্থান আট নম্বর। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমজেএল কঠোরভাবে বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড প্রতিপালন করে বলে জানান কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ব্লুমবার্গ একটি বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন প্রতিষ্ঠান, যা মূলত আর্থিক তথ্য, সংবাদ ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করে। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ টার্মিনাল, টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের কাছে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক ও বাজারভিত্তিক তথ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ইএসজি রেটিং প্রকাশ করে আসছে ২০২০ সাল থেকে। আর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে প্রথম ইএসজি রেটিং প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালে। ওই রেটিংয়ে দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান স্থান পায়।
ইএসজি রেটিং মূলত একটি স্কোর বা মূল্যায়ন ব্যবস্থা, যেখানে কোনো কোম্পানি বা সংস্থার পরিবেশগত, সামাজিক ও করপোরেট সুশাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ওই কোম্পানিটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা দায়িত্বশীল ও টেকসই সেটিও পরিমাপ করা হয়। এ পরিমাপের ক্ষেত্রে ব্লুমবার্গ তাদের ডেটা প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। আর এগুলো নেয়া হয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন, টেকসই উন্নয়ন রিপোর্ট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য, সংবাদ ও তৃতীয় পক্ষের ডাটা থেকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্বন নিঃসরণ, সম্পদ ব্যবহার, কর্মপরিবেশ, বৈচিত্র্য, মানবাধিকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, শেয়ারহোল্ডার অধিকার ইত্যাদি সূচক বিবেচনা করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হয়।
সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরাই টেকসই ও দায়িত্বশীল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী থাকেন। ইএসজি রেটিং মূলত আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের বুঝতে সাহায্য করে কোন কোম্পানি পরিবেশ ও সমাজের জন্য ঝুঁকি কম তৈরি করছে এবং তার পরিচালন ব্যবস্থা স্বচ্ছ।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় লাফার্জহোলসিম, এমজেএল বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের পরে আরো আটটি প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ক্যাটাগরিতে স্কোর যথাক্রমে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ২ দশমিক ৯১, সিটি ব্যাংকের ২ দশমিক ৩৩, গ্রামীণফোনের ২ দশমিক ৮৮, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের ২ দশমিক ৯৩, বিএসআরএম স্টিলসের ২ দশমিক ৫৫, স্কয়ার ফার্মার ২ দশমিক শূন্য ৯, ওয়ালটনের ২ দশমিক ৫৭ এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২ দশমিক ৪০।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।