সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবণতা। দিনজুড়ে সূচকে ওঠানামা থাকলেও শেষ মুহূর্তের বিক্রির চাপে প্রধান সূচক নিম্নমুখী হয়ে লেনদেন শেষ করে। তবে সামগ্রিক বাজারে দুর্বলতার মধ্যেও ইন্স্যুরেন্স খাতে ছিল ব্যতিক্রমী ইতিবাচক গতি। এ খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ক্রয়চাপ দেখা যায়, যা গেইনার তালিকাতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ১৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস (DSES) সূচক ৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ (DS30) সূচক ৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
শুধু সূচক নয়, কমেছে লেনদেনও। এদিন ডিএসইতে মোট ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা।
দিনজুড়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯২৩টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৯টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৪০টির কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইন্স্যুরেন্স খাতে ইতিবাচক চিত্র
সার্বিক বাজারে বিক্রির চাপ থাকলেও ইন্স্যুরেন্স খাতে ছিল ভিন্ন চিত্র। সাধারণ ও জীবন বিমা খাতের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা যায়। ফলে দিনের গেইনার তালিকায় এ খাতের কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
দিনের সর্বোচ্চ ৯.৯৬ শতাংশ দর বেড়ে গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স (BNICL)।
এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি হয়েছে:
● রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স: ৭.৬২ শতাংশ
● গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স: ৬.০৯ শতাংশ
● পিপলস ইন্স্যুরেন্স: ৫.৯৪ শতাংশ
ইন্স্যুরেন্স খাতের বাইরে এমএল ডায়িংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৭৬ শতাংশ, বিডি থাই ফুডের ৯.৬৮ শতাংশ, আমরা টেকনোলজির ৯.৬৬ শতাংশ এবং জিলবাংলা সুগার মিলসের ৮.৭২ শতাংশ।
লেনদেনে শীর্ষে সামিট এলাইড পোর্ট
টাকার অঙ্কে দিনের সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সামিট এলাইড পোর্ট টার্মিনাল (SAPORTL)-এর শেয়ারে। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এরপর রয়েছে এমএল ডায়িংয়ের ২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং আইটিসির ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন।
অন্যদিকে, শেয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে (ভলিউম) সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়েছে এমএল ডায়িংয়ের ১ কোটি ২৯ লাখ শেয়ার। এরপর রয়েছে ডিএসএসএলের ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার এবং কুইন সাউথ টেক্সটাইলের ৭২ লাখ ৬৯ হাজার শেয়ার।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দিনজুড়ে সূচকে একাধিকবার ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও শেষ ঘণ্টায়, বিশেষ করে শেষ ১০ মিনিটে বিক্রির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।
তাদের মতে, বর্তমান বাজারে খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে স্বল্প মূলধনী ও সক্রিয় ইন্স্যুরেন্স খাতের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও বাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি প্রয়োজন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।