কাতার থেকে এলএনজিবাহী একটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পার হয়ে বাংলাদেশের দিকে আসছে।
জ্বালানি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর আবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে কাতার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারে এলএনজি লোড হওয়া একটি ট্যাঙ্কার বাংলাদেশের দিকে রওনা হচ্ছে।
সবশেষ শনিবার ইরান জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান পুরো নৌপথ বন্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল সীমিত করার নীতি নিচ্ছে।
এতে করে কাতার থেকে এলএনজি লোড হওয়া জাহাজগুলো ফের হরমুজ প্রণালীর দিকে নিজ দেশের গন্তব্যে এগুচ্ছে। জাহাজ চলাচলের তথ্যের উল্লেখ করে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লেব্রেথাহ ট্যাঙ্কারটি শুক্রবার কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল ত্যাগ করেছে।’ জাহাজটির পানির নিচের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে যে এটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছে এবং আগামী ১৪ মার্চ সেখানে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ব্লুমবার্গ আরও জানায়, এ সপ্তাহের শুরুতে ‘আল ঘাশামিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে এলএনজি ভরা হয়েছে। এটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে এই দুটি চালানের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে ইরানের সর্বশেষ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া অন্য দেশগুলো আশাবাদী হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত তাদের তেল বা জ্বালানিবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। যদিও আগের খবরের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সমুদ্রপথ পুনরায় না খোলা পর্যন্ত ‘লেব্রেথাহ’ ভাসমান স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্য দেশগুলো থেকে সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে সরকার।