যতদিন দিন যাচ্ছে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা মানুষের জন্যে কঠিন হয়ে পরছে।
ইদানিং শেয়ার বাজার ঘুরছে চরকির মতো, বিনিয়োগকারীগন বুঝতেই পারছেন না কি হচ্ছে। এই বাড়ছে তো মূহুর্তেই আবার কমে যাচ্ছে। আবার কোন শেয়ার বামে হ্যাং হয়ে যাচ্ছে পরক্ষণেই আবার ইতিবাচক হচ্ছে। ভয় পেয়ে স্টপ লস দিচ্ছে অনেকেই। এক কথায় মানুষজন দারুন হতাশার মধ্যে দিয়ে বাজার অবলোকন করছে।
মুহুর্তের মধ্যে শেয়ারের আচরণ দেখে মানুষজন দারুন ভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরছেন, ট্রেডিং করতেই পারছেন না। আজ যে সব শেয়ার টপ গেইনিং তালিকাতে থাকছে কাল সেটা চলে যাচ্ছে টপ লুজার তালিকাতে।প্রায় ই বিভিন্ন শেয়ার ,অনেক শেয়ার নিয়ে ফ্লোর ভেঙে লেনদেন হয়ে, পরক্ষনেই আবার ফ্লোরে চলে যাচ্ছে।অনেকেই নতুন করে রানিং টাকা নিয়ে ফ্লোরে আটকে যাচ্ছে।
বহুদিন যাবৎ অনেক ভালো মানের শেয়ার ও লেনদেন হচ্ছেনা।চোখের সামনে বাজারে বিভিন্ন শেয়ার বাড়তে দেখে হাতের শেয়ার বিক্রি করে কেনার ক্ষমতা না থাকাতে দিন দিনফ্লোরে আটকে থাকা বিনিয়োগকারীগন মানুষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরেছেন।আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন বেশ কিছু শেয়ার অনেক বিনিয়োগকারীর লাভে থাকা সত্তেও বিক্রি করতে না পেরে দারুনভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন।
গত ২/৩ দিন আমাদের পেপারের অফিসের ফোন নাম্বারে ফোন করে দুখঃভারাক্রান্ত মন নিয়ে ৩ জন বিনিয়োগকারী জানালেন কোডের শেয়ার লাভে থাকা সত্তেও বিক্রি করতে না পারাতে এইবার কোরবানি দিতে পারবনা।এছাড়াও বিভিন্ন সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন হাউজের অফিসে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের আহাজারি শোনা গেল।এইবার অন্তত ২০জন বিনিয়োগকারী আমাদের বিভিন্ন প্রতিবেদকের কাছে জানিয়েছেন প্রতিদিন কোরবানি খরচ সহ আরো কিছু টাকার জন্যে শেয়ার বিক্রি বসিয়ে রেখে বিক্রি করতে না পেরে হতাশার সুরে বলেছেন শেয়ার বিক্রি না করতে পারলে এইবার কোরবানিই দেয়া হবেনা।আজ লেনদেন চলাকালীন শেষ সময়ে একজন বিনিয়োগকারী একটি হাউজের অফিসারকে ফোন করে জানতে চাইলেন শেয়ার বিক্রি হলো কিনা।বিক্রি হয়নি শুনতে পেয়ে উক্ত বিনিয়োগকারী জানালেন যেহেতু আর ৪ দিন বাকি আছে লেনদেন এর ,কাল বিক্রি না হলে আর শেয়ার বিক্রি বসাবেন না।কি আর করা কোরবানি দেয়া হলোনা।
টাকা থাকতেও প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে না পারার বেদনায় তারা শেয়ার বাজার কে গালি দিচ্ছেন এই বার বের হতে পারলে গোসল দিয়ে শেয়ার বাজার থেকে বিদায় নিব।
আজকের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক কিছুটা কমলেও লেনদেন গতকালের চেয়ে বেড়েছে। আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশনেওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।আজ ডিএসইতে ৫৯০.৯৯ কোটিটাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১২.৩৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬৩০১.৭৯পয়েন্টে। অন্যসূচকগুলো নেতিবাচক ধারাতে লেনদেন শেষ হয়েছে।
অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও সূচক কিছুটা কমলেও লেনদেন গতকালেরচেয়ে বেড়েছে।
আজ সিএসইতে ২০.৪৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
গতদিন ইতিবাচক বাজার শুরু হয়ে ১ দিনের মাথায় এরকম নেতিবাচক ধারায় বাজার চলেআসাতে বিনিয়োগ কারীগন দারুণভাবে আশাহত হয়েছেন।
টাকার অভাবে কোরবানি দিতে পারছেন না এবার বহু বিনিয়োগকারী।
এই বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট একজন অভিজ্ঞ বিশ্লেষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয় টি খুবই দুখঃজনক ব্যাপার হলেও আসলে শেয়ার বাজারে কোন ভাবেই জরুরী প্রয়োজন লাগতে পারে এমন টাকা বিনিয়োগ করা ঠিক না।এখানে সেই টাকা বিনিয়োগ করা উচিৎ যে টাকা সম্পূর্ন অলস টাকা।যা আপনার ১/২ বছরে প্রয়োজন হবেনা।তবে তিনি জানান ,কে কি টাকা বিনিয়োগ করবে সেটা বিনিয়োগকারীদের ব্যাপার হলেও বাজারে শেয়ার ক্রয় বিক্রির অবস্থা সব সময় থাকবে এটাই বাজারের নিয়ম।