বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু রাজনীতিবিদের ভূমিকাকে নব্য ঔপনিবেশবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়া। মস্কো মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের’ চেষ্টা।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক টুইটে এসব কথা বলা হয়েছে।
টুইটে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকার কিছু রাজনীতিবিদের চিঠি প্রকাশের বিষয়টি আমরা লক্ষ করেছি। এটি হচ্ছে নব্য উপনিবেশবাদ এবং একটি স্বাধীন দেশে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের আরেকটি অপপ্রয়াস।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইট লিংক

উচ্চ পর্যায়ের একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের মাত্র চারদিন আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিলো রাশিয়া।
এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এক বিবৃতিতে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাথে কাজ করতে চীন প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেন।
গত এপ্রিলে সংসদে এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো দেশে ক্ষমতা ‘উল্টাতে পারে, পাল্টাতে পারে’।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন হল, কেন তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করল? যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সন্ত্রাস মোকাবেলার জন্য কাজ করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তখন তারা লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যারা ভুক্তভোগী, তাদের পক্ষে নয়।’
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর এলিট ফোর্স র্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিবিসির সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘হয়ত তাকে ক্ষমতায় চায় না বলেই’ বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গত মে মাসে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এদিকে আগামী ১১ই থেকে ১৪ই জুলাই বাংলাদেশ সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল। ওই দলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী প্রশাসক ইউএসএআইডি অঞ্জলি কাউরও থাকবেন।