অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

বাজেট ২০২৪-২০২৫: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানার

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়াতে বলেছেন।

গতকাল সোমবার (১৩মে) গণভবনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী অসুস্থ থাকায় বৈঠকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিফা আয়শা খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে আগামী বাজেটের প্রস্তুতি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিফা আয়শা খান বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নসহ আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গতকালের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দিতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়, বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগামী বাজেট কিছুটা সংকোচনমূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ছয়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়ানোর পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া খোলা ট্রাকে খাদ্যশস্য বিক্রি কার্যক্রম বাড়ানো হবে। টিসিবির মাধ্যমে বর্তমানে এক কোটি পরিবার কম মূল্যে খাদ্যপণ্য পাচ্ছে।

আগামীতে পরিবার এবং পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ১১৫টি কর্মসূচিতে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের পেনশন বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম এবং কৃষিসহ বেশ কিছু ভর্তুকি সামাজিক সুরক্ষায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিতর্ক রয়েছে।

চলতি বাজেটের মতো নতুন বাজেটেও জিডিপির প্রায় একই হারে বরাদ্দ রাখা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাড়তি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বেশ কিছু ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। জানা গেছে, ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেননি। তিনি উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ অর্থনীতিতে চাপ কমে আসবে। বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি কিছুটা বাড়ায় ইতোমধ্যে চলতি হিসাবে বেশ উন্নতি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদহার বেশি হওয়ায় দায় পরিশোধের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তারা কিস্তির বাইরেও বাড়তি পেমেন্ট করেছে।

এ কারণেই আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আশার কথা, বাড়তি পরিশোধের হার ইতোমধ্যেই কমে এসেছে। তাই আশা করা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি কমে আসবে। তাছাড়া নতুন বিনিময় হার ঘোষণার ফলে রপ্তানির বিপরীতে অর্থ আসা এবং রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যেমন হচ্ছে আগামী বাজেটের তুলনায় মাত্র ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের রূপরেখা তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

চলতি বাজেট যেখানে আগেরটির তুলনায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি ছিল। নতুন বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। পরিচালন বাজেটে ব্যয় বেশ কিছুটা বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ বাড়ছে খুব সামান্য। নতুন বাজেটে এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ এবং বাকি ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা দেশের ব্যাংকিং খাত ও অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ দেওয়া হবে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হচ্ছে চলতি বাজেটের থেকে কিছু কমিয়ে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইতোমধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, সারসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমলেও এসব খাতে আগামী বাজেটেও বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। কারণ চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির দায় আগামী বছর পরিশোধ করতে হবে।

ডলারের দাম বাড়ানোর প্রভাবে বাজেটের সম্ভাব্য বরাদ্দে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে কিনা, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ জন্য মূল বাজেটের আকার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। তবে কিছু খাতে বরাদ্দে পরিবর্তন করতে হবে। যেমন– বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ এবং আমদানি-সংক্রান্ত খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।